রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন

অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ১৪ দলের

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু বলেছেন, দেশের চলমান উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে যারা দেশ ও দেশের মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে সেই অপশক্তিকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। রবিবার (১৭ অক্টোবর) ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ১৪ দলের এক সভায় এ কথা বলেন আমু।

কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।  সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে জাতি-ধর্ম শ্রেণি-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি

আমির হোসেন আমু বলেন, তারা কেন কুমিল্লাকে বেছে নিলো? কেন তারা নোয়াখালীকে বেছে নিলো?  তা খুঁজে বের করতে হবে। আমি মনে করি, এই কাজ উগ্রবাদী গোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত আর এর পিছনে ইন্ধন দিয়েছে বিএনপি-জামাত চক্র। রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমেই এদেরকে মোকাবিলা করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। তাই আমাদের সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সহায়ক শক্তিগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল রাজনৈতিক শক্তির সহযোগিতা কামনা করছি। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবেই এই উগ্র-সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে মোকাবিলা করবো।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, এসব ঘটনা আমরা পাকিস্তান আমল থেকে দেখে আসছি। সেই ৬০-এর দশক থেকে এসব হয়ে আসছে। ইসলাম ‘গেলো গেল ‘ বলে তখন থেকে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে এই অপশক্তি। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে ইসলাম স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, সত্যিকার অর্থে ধর্মবিশ্বাসী কোনও মানুষ এই হামলা করতে পারে না। সারাদেশের অনেক মন্দিরে হামলা হয়েছে। ভাঙচুর হয়েছে। তিনি বলেন, রামু, নাসিরনগর, কুমিল্লা সব ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা। সাম্প্রদায়িকতা এতো বেশি বিস্তার লাভ করছে যে, তা সব দলেই আছে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, কুমিল্লার হামলার পিছনে কারা ছিল? ৭১-এর পরাজিত শক্তি বিএনপি-জামাতিরাই। তারা দাঙ্গার জন্য উস্কে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি। সুতরাং এটা আমি জঙ্গি হামলা হিসেবেই দেখবো।

সাম্যবাদী দলের সভাপতি দিলীপ বড়ুয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। অর্থনীতিতে ভারত-পাকিস্তানের চয়েও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী তা সহ্য করতে পারছে না। তারা ধর্মের নামে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। কুমিল্লার ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটা রাজনৈতিক মদদ পুষ্ট। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা এই অপশক্তিকে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবো।

এসময় তিনি কেন্দ্রীয় ১৪ দলকে  বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সভা ও প্রচারণা চালানোর পরামর্শ দেন।

গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন বলেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি দেশকে পিছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কুমিল্লার ঘটনার জন্য যারা দায়ী তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী বলেন, বিএনপি-জামাত আর উগ্রবাদ সব একইসূত্রে গাঁথা। আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সচেষ্ট থাকতে হবে। ২০২৩ সালের নির্বাচনের আগে এমন আরও আঘাত আসতে পারে। যা শক্তভাবে প্রতিহত করতে হবে। ধর্মের নামে যা হচ্ছে, ইসলাম তা সমর্থন করে না।

জাতীয় পার্টির-জেপি প্রেসিডিয়াম মেম্বার এজাজ আহমেদ মুক্তা বলেন, ৭১-এর পরাজিত শক্তিরা থেমে নেই। তারা সারাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য উন্মাদ হয়ে গেছে। এরা দেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নিতে চায়। দেশের দুর্দিনে আমরা কখনো চুপ করে ছিলাম না, থাকবো না।

গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি-জামাত। এদের আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুক পেইজ