সোমবার, ৫ এপ্রিল ২০২১, ২২শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, সময় : রাত ৯:৩৩

আনোয়ারায় চলছে মাটি কাটার মহোৎসব


প্রকাশের সময় :২১ মার্চ, ২০২১ ১০:০৮ : অপরাহ্ণ
এম.এম.জাহিদ হাসান হৃদয় (আনোয়ার):চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় পুরো ধমে চলছে  মাটি কাটার মহোৎসব। বন ও পরিবেশ আইন অমান্য করে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় একটি চক্র দেদারছে মাটি কেটে বিক্রি করলেও কোনো আইনি পদক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রশাসনের। স্থানীয় প্রশাসন মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানা আদায় করলেও তা আমলে নিচ্ছেন না মাটি ব্যবসায়ীরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে আইন অমান্য করে এস্কেভেটর (ভ্যাকু) দিয়ে ফসলি জমির টপসয়েল ও লাল মাটির পাহাড় কাটা হচ্ছে। ফসলি জমির মাটির বেশিরভাগ ব্যবহৃত হচ্ছে ইটভাটায়। উপজেলার  ৪নং বটতলী ইউনিয়নে রয়েছে ২টি ইটভাটা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ফসলি জমির টপসয়েল কেটে ট্রাক দিয়ে এসব ভাটায় ইট প্রস্তুতের জন্য মাটি জমা করা হচ্ছে।
সরকারি গেজেটে প্রকাশিত মাটির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও হ্রাসকরণ ২০১৩ সালের ৫৯ নং আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি ইট প্রস্তত করার উদ্দেশ্যে কৃষি জমি হতে মাটি কাটা বা সংগ্রহ করে ইটের কাচাঁমাল হিসাবে ব্যবহার করতে পারবে না। যদি কোন ব্যক্তি আইনের এই ধারা লঙ্ঘন করেন তা হলে তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসরের কারাদণ্ড বা ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দণ্ডেদন্ডিত হইবেন।
মাটি ব্যবসায়ীরা এক শ্রেণীর দালাল দিয়ে সাধারণ কৃষককে লোভে ফেলে ফসলি জমির মাটি বিক্রিতে উৎসাহিত করছেন। আর কৃষকরা লোভে পড়ে নগদ টাকার আশায় ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে দেন। ৮-১০ ফুট গভীর করে মাটি কাটার ফলে অনেক জমিই ডোবায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিমত, প্রতিবছর শত একর ফসলি জমির মাটি কাটা হচ্ছে। যার কারণে দিন দিন আবাদী জমির পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। ফলে কৃষি উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকিতে পড়ছে।
এসব মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে বাড়ি নির্মাণ, ডোবা ভরাট, রাস্তা সংস্কার, রাস্তা নির্মাণ, বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ এবং ইটভাটাসহ বিভিন্ন কাজে। অনেকে আবার অনুমতি ছাড়াই পুকুর কাটার কথা বলে মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। শুধু দিনের আলোয় নয়, রাতের আধারেও চলে লাল মাটির পাহাড় কাটা। প্রশাসনের নজরদারি বেশি থাকলে মাটি ব্যবসায়ীরা রাতের সময়কে উত্তম সময় হিসাবে বেছে নেন। ইতিমধ্যে বটতলীর ইউনিয়নে রাতের আঁধারে কেটে নিয়ে সাবাড় করা হচ্ছে ফসলি জমির মাটি।
এলাকাবাসী জানায়, স্থানীয় প্রশাসন জেল জরিমানা করার পর কিছু দিন বিরতি দিয়ে আবার পুরোদমে মাটি কাটার কাজ শুরু করেন মাটি ব্যবসায়ীরা। আবার অনেক মাটি ব্যবসায়ী কৌশল পরিবর্তন করে দিনের বদলে রাতের বেলায় লাল মাটির পাহাড় কেটে সাবাড় করছেন। তাদের অভিযোগ গ্রামীণ পাকা সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মাটির ট্রাক চলাচলের কারণে সড়ক নির্মাণের দুই এক বছরের মধ্যে তা ভেঙে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
অথচ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত বা ইউনিয়ন বা গ্রামীন সড়ক ব্যবহার করিয়া কোন ব্যক্তি ভারি যানবাহন দ্বারা ইট বা ইটের কাচাঁমাল পরিবহন করিতে পারিবেন না। যদি কোন ব্যক্তি আইনের এই ধারা লঙ্ঘন করেন তা হইলে তিনি ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
এসব আইন থাকার পরও ভূমিদস্যুরা আইনের তোয়াক্কা না করে স্থানীয় প্রশাসন চোখের সামনে বেপুরোয়া ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে মাটি কাটার কাজ।
এবিষয়ে জানতে চাইলে সহকারি কমিশনার (ভূমি) তানভীর হাসান চৌধরী বলেন, অনেক জায়গায় অনুমতি নিয়ে মাটি কাটা হয়। অবৈধ মাটি কাটার খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমি অভিযানে যায়। তার পরেও রাতের আঁধারে একটি কুচক্রী মহল অবৈধভাবে মাটি কাটে।  আমি একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করছি মাটি কাটার যন্ত্র ও গাড়ী জব্দ করছি।  অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করতে অভিযান আরো বৃদ্ধি করা হবে।