সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, সময় : সকাল ৬:১৬

আবার ও বাজারে এলো ইলিশ আর দাম কমেছে অন্য সব মাছের 


প্রকাশের সময় :৭ আগস্ট, ২০২০ ২:৩৯ : অপরাহ্ণ
সিএসপি নিউজ :  নগরীর মাছের বাজারে মাছের রাজা ইলিশের ভিড়ে দাম কমেছে অন্য সব রকম মাছের। আবার ইলিশের কারনে অনেক মাছের বিক্রিও কমে গিয়েছে। সব মাছের দাম কমায় স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে। ২ কেজি ওজনের প্রতিকেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮শ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে। যা এর আগে বিক্রি হয়েছে ২হাজার ৫শ থেকে ২ হাজার ৮শ টাকায়। শুক্রবার (৭ আগস্ট) নগরের বিভিন্ন পাইকারি মাছের বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে ইলিশের দাম। বর্তমানে বাজারে সোয়া কেজি থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা, এক কেজি ওজনের ইলিশ ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা, আড়াই থেকে তিন কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি করতে দেখা গেছে ২৮০০ টাকা কেজি। যেগুলো এর আগে বিক্রি হয়েছে ৩৫০০ থেকে চার হাজার টাকায়। এ বাজারে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি, আর ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ৬০০ গ্রাম সাইজের প্রতি হালি ইলিশ বিক্রি করতে দেখা গেছে ১২০০ টাকায়। তিন পিসে কেজি এমন ইলিশ প্রতিকেজি সাড়ে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি জাটকা ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমে এসব বাজারে প্রতিকেজি কাচকি মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং (আকারভেদে) ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ২৮০ থেকে ৪০০ টাকা, মৃগেল ১৭০ থেকে ২৮০ টাকা, কাতলা ১৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হতে দেখা যায়।
তাছাড়া, ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দাম কমে প্রতি কেজি রূপচাঁদা বিক্রি করতে দেখা গেছে- ৭০০ থেকে ৮৬০ টাকায়, কেজি প্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা কমে আকারভেদে রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি, চিংড়ি  ৩৮০ থেকে ৩২০ টাকা, গলদা ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা, বাগদা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে। ২০ থেকে ৫০ টাকা কমে প্রতি কেজি তেলাপিয়া ১০০ থেকে ১৩০ টাকা, টাকি ১০০ থেকে ১৮০ টাকা, পাঙাশ ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শিং ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বন্দরটিলা বাজারে মাছ কিনতে আসা সাত্তার পাটোয়ার বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিপ্রতি ইলিশের দাম কমে গেছে দেড়শ থেকে ২০০ টাকা। বাজারে ইলিশ বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় দেশী জাতীয় কার্প ও চিড়িংসহ মলা ঢেলার মতো ছোট ছোট মাছের দাম কমে গেছে। তিনি বলেন, টানা ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় এবং মা ইলিশ রক্ষায় নদী ও সাগরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কোস্টগার্ডের নজরদারি বাড়ায় মাছের উৎপাদন বেড়েছে। এর সুফল মিলছে বাজারে।
স্টিলমিল বাজারের পাইকারি ইলিশ বিক্রেতা হাজী মো. আফসার মেম্বার বলেন, কদিন আগে যে ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২ হাজার টাকা কেজি আর সেগুলোর হালি এখন ১ হাজারের মতো। এখন নদী ও সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। এ কারণে ইলিশের দাম কমেছে। ইলিশের সরবরাহ বেশি হওয়ায় অন্য মাছের ক্রেতারা ইলিশের দিকে ঝুঁকছে তাই অন্য মাছের দামও কমেছে।
তিনি আরও বলেন, চিংড়িসহ অনেক মাছ বিক্রি হচ্ছে না। তাই বরফ দিয়ে রেখে পরের দিন বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে ইলিশের দাম কম হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতার মধ্যে।ক্রেতা নাবিল বলেন, আমি বাজারে কয়েকদিন পর পর মাছ কিনতে আসি। গত তিন থেকে চার মাস ধরে সব মাছের দাম ছিল চড়া। এখন ইলিশসহ অন্য সব মাছের দাম কমাতে স্বস্তি ফিরেছে। এতে অন্তত আমরা ইলিশের স্বাদ নিতে পারবো।