শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সময় : রাত ৮:০৯

উল্টো পথে মোটরসাইকেল চালানোর প্রতিবাদ করায় এক বিচারকের ওপর হামলা


প্রকাশের সময় :৯ ডিসেম্বর, ২০২০ ৭:৩৬ : অপরাহ্ণ
সিএসপি নিউজ : চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গায় রেসিং করে উল্টো পথে মোটরসাইকেল চালানোর প্রতিবাদ করায় জহির উদ্দিন নামে এক বিচারকের ওপর হামলা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আলী আকবর ইকবাল ও হাসান আলী জিসান নামে দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (৯ ডিসেম্বর) বিকেলে নগরীর পতেঙ্গা থানার চরপাড়া বেড়িবাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই তাদের আটক করে। আলী আকবর ইকবাল আলোচিত-সমালোচিত যুবলীগ কর্মী মহিউদ্দীন হত্যা মামলার আসামি হাজী ইকবালের ছেলে ও যুবলীগ কর্মী মো. মহিউদ্দিন হত্যা মামলার আসামি। অন্যদিকে হামলার শিকার জহির উদ্দিন চট্টগ্রাম ৫ম যুগ্ম দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন।
পতেঙ্গা থানার ওসি জুবায়ের সৈয়দ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‌‘বিচারকের ওপর হামলার মৌখিক অভিযোগ পেয়ে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এখন বিচারক স্যার যদি লিখিত অভিযোগ দেন তাহলে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
পতেঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক মনির হোসেন জানান, ‌বুধবার বিকেলে আউটার রিং রোডে উল্টো পথে বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল রেস করছিল আলী আকবর ও জিসান। বিচারক জহির উদ্দিন তাদের এমন আচরণের প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দুই জন বিচারকের উপর হামলা চালায়। এসময় স্থানীয় লোকজন তাদের হাত থেকে বিচারককে উদ্ধার করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া আলী আকবরের বাবা বন্দর থানা আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী ইকবাল আলোচিত ও সমালোচিত। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ নানান অভিযোগ রয়েছে। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য হাজী ইকবাল বেশ সমালোচিত। বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকীতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ‘হায় মুজিব’, ‘হায় মুজিব’ আত্মচিৎকার করে নিজের পিঠে খঞ্জর দিয়ে আঘাত করে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেন হাজি ইকবাল।
এছাড়া ২০১৮ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম নগরীর সল্টগোলা ক্রসিংয়ের মেহের আফজাল উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একটি সভা চলাকালীন সময় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ঢুকে যুবলীগ কর্মী মো. মহিউদ্দিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহত মহিউদ্দিনের মা হাজী ইকবালসহ ১৭ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মহিউদ্দীন হত্যায় হাজী ইকবালসহ ২০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় বন্দর থানা পুলিশ। অভিযোগ পত্রে হাজী ইকবাল, তার ভাই মুরাদ, ছেলে আকবর, বিপ্লব, ডিউক, আজাদ, শেখ মহিউদ্দিন, মাহিব, আজগর, জিসানসহ মোট ২০ জনকে আসামি করা হয়।