শুক্রবার, ০৬ অগাস্ট ২০২১, ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন

ওসি প্রদীপকে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে কক্সবাজার কারাগারে স্থানান্তর

সিএসপি নিউজ : সাবেক ওসি প্রদীপকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার কারাগারে স্থানান্তর ,অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাসকে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে কক্সবাজার কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ জুন) দুপুরে তাকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, ২০২০ সালের শেষে দিকে চট্টগ্রামের একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে প্রদীপ কুমার দাসকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়। ওই সময় থেকে তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন। তার মূল মামলাটি কক্সবাজারে হওয়ায় তাকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে।

দীর্ঘ সাত মাস চট্টগ্রাম কারাগারে থাকার পর বেলা ১১টার দিকে তাকে প্রিজনভ্যানে কক্সবাজার পাঠানো হয়েছে বলেও জানান জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম।

কক্সবাজার জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. মনির হোসেন বলেন, প্রদীপ কুমার দাসকে চট্টগ্রাম থেকে নিয়ে রওনা হওয়া প্রিজনভ্যান এখনও কক্সবাজার জেলা কারাগারে এসে পৌঁছায়নি। কিছুক্ষণের মধ্যে প্রিজনভ্যান কক্সবাজার জেলা কারাগারে পৌঁছাবে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।

প্রসঙ্গত, দুদকের মামলায় হাজিরা দিতে প্রদীপ কুমার দাসকে ২০২০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম কারাগারে নিয়ে আসা হয়। ওই দিন দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে তাকে চট্টগ্রাম কারাগারে আনা হয়।

এর আগে গত ২৩ আগস্ট প্রদীপ কুমার দাস ও তার স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ বাদী হয়ে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দীন।

দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬ (২) ও ২৭ (১), মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ (২) ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রদীপের স্ত্রী চুমকি দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ১৩ লাখ ১৩ হাজার ১৭৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণ হয়েছে, যা প্রদীপ কুমার দাস ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করে পরস্পরের যোগসাজশের মাধ্যমে হস্তান্তর; স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে ভোগদখলে রেখে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলো, ডাকাত সন্দেহে সিনহাকে গুলি করা হয়।

এ ঘটনায় গত ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন। এই মামলায় টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ নয় পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়।

আদালত মামলাটির তদন্তভার দেয় র‌্যাবকে। গত ৬ আগস্ট প্রধান আসামি লিয়াকত আলী ও প্রদীপ কুমার দাসসহ সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুক পেইজ