বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০ ১৮ই আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, সময় : দুপুর ১২:২০

শিরোনাম

করোনা ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ৭৫ শতাংশের বেশি হবে না: ফাউচি


প্রকাশের সময় :২৯ জুন, ২০২০ ৬:১২ : অপরাহ্ণ

সিএসপি ডেস্ক নিউজ : যুক্তরাষ্ট্রের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউচি বলেছেন, সম্ভাব্য কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পরও যুক্তরাষ্ট্রে করোনার বিরুদ্ধে হার্ড ইমিউনিটি গড়ে তোলা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন তিনি। তার ধারণা, করোনার ভ্যাকসিন ৭০ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশের বেশি কার্যকরী হবে না। তাছাড়াও জনমত জরিপে অনেক আমেরিকান নাগরিক আভাস দিয়েছেন, তারা করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন গ্রহণ করবেন না। সব মিলে করোনার বিরুদ্ধে পরিপূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ফাউচি

সরকারের সমর্থন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের তিনটি ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা চলছে। আগামী তিন মাসে এগুলো নিয়ে বড় আকারে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি সিএনএন-কে সাক্ষাৎকার দেন ফাউচি। রবিবার (২৮ জুন) রাতে সে সাক্ষাৎকারটি প্রচার করা হয়। সেখানে ফাউচি বলেন, ‘এ যাবতকালে আমরা যতগুলো টিকা আবিষ্কার করেছি তার মধ্যে হামের টিকা সবচেয়ে ভালো হয়েছিল। এটি ৯৭ থেকে ৯৮ শতাংশ কার্যকরী। আমরা যদি করোনার ক্ষেত্রে সে পর্যন্ত করতে পারি, তবে তা খুব চমকপ্রদ হবে। তবে মনে হয় না আমরা তা করতে পারব। আমার ধারণা, এ ভ্যাকসিন ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকরী হবে।’
গত মাসে সিএনএন-এর এক জরিপে দেখা যায়, এক তৃতীয়াংশ মার্কিনি বলেছেন, তারা কোভিড-১৯ প্রতিরোধের জন্য সহজে ও কম দামে ভ্যাকসিন পাওয়া গেলেও তা তারা নেওয়ার চেষ্টা করবেন না।
সিএনএন-এর পক্ষ থেকে ফাউচির কাছে জানতে চাওয়া হয়, ‘যখন একটি ভ্যাকসিন ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ কার্যকরী হয় এবং জনগণের দুই তৃতীয়াংশ সে ভ্যাকসিন গ্রহণ করে তখন তা হার্ড ইমিউনিটি তৈরি করতে পারে কিনা।’
এ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ না সূচক জবাব দেন। বলেন, ‘না, এটা হওয়া সম্ভব না।’
হার্ড ইমিউনিটি হলো, যখন কোনও জনসংখ্যার একটা বড় অংশ সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে কিংবা ভ্যাকসিন গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে ওই রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করতে সক্ষম হয়। এর মধ্য দিয়ে রোগটি এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তির মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে না।
ফাউচি আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘দেশের কিছুসংখ্যক মানুষের মধ্যে বিজ্ঞানবিরোধী, কর্তৃত্ববিরোধী, ভ্যাকসিনবিরোধী মনোভাব আছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, জনগণের একটা বড় অংশ ধারণাগতভাবে কথা বলেন।’ এ বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ভ্যাকসিনের সত্যতা সম্পর্কে মানুষকে শেখানোর জন্য আরও অনেক কাজ করতে হবে।