শনিবার, ৩ এপ্রিল ২০২১, ২০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, সময় : দুপুর ২:৩৯

শিরোনাম

কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব এবং সমগ্র দেশের কথা মাথায় রেখে কাজ করতে হবে – তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ


প্রকাশের সময় :১২ মার্চ, ২০২১ ৯:৫৪ : অপরাহ্ণ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
আমি আশা করি বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্রগ্রাম কেন্দ্র, চট্রগ্রামের মানুষদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হবে। যেখানে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড বেশি সেখানে জঙ্গিবাদ কম হয়।

আজ শুক্রবার (১২ মার্চ) বিকেলে তথ্যমন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদ, এমপি বালাদেশ টেলিভিশন চট্রগ্রাম কেন্দ্রে সংগীত শিল্পী অডিশন ২০২০- এ উওীর্ণ নতুন তালিকাভুক্ত সংগীত শিল্পীদের ওরিয়েন্টশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, চট্রগ্রাম টেলিভিশন কেন্দ্রে বহুবছর পর দীর্ঘ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন শিল্পীদের অন্তভুক্তি করা হয়েছে। প্রায় পাচশত নতুন শিল্পীকে অন্তভুক্তি করা হয়েছে যা বহুবছর ধরে করা হয়নি। এই চট্রগ্রাম টেলিভিশন কেন্দ্র ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে যাত্রা শুরু করেছিল। দীর্ঘ বিশ বছর এটির সম্প্রচার দেড় ঘন্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর আমি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যেগ গ্রহণ করি এবং এই কেন্দ্রকে স্বয়ংসম্পুর্ণ রূপ দেওয়ার জন্য। পুর্বের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু নিজেও তার বহু বক্তৃতায় বলেছেন যে, বর্তমান তথ্যমন্ত্রীর সহায়তায় বাংলাদেশ টেলিভিশন কেন্দ্র, চট্রগ্রাম আধুনিক রূপ লাভ করছে। আমি কথাগুলো বলতে চাচ্ছি অনেকে জানেন না বিধায় জানানোর জন্য। পূর্বে আমি বলেছিলাম বাংলাদেশ টেলিভিশন কেন্দ্র, চট্রগ্রামকে টেরিস্ট্রিয়াল চ্যানেল হিসেবে করার জন্য ,কিন্তু তখন এটি নানা কারনে সম্ভব হয়নি। ২০১৬ সালে এটি শুধুমাত্র ক্যাবল টেলিভিশন হিসেবে শুরু হয়।

তিনি আরও বলেন পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী যখন আমাকে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন,তখন আমরা এটিকে ক্যাবল চ্যানেল থেকে টেরিস্ট্রিয়াল চ্যানেলে রূপান্তর করার কার্যক্রম শুরু করি এবং ছয় ঘন্টা থেকে নয় ঘন্টা সম্প্রচার শুরু করি। বর্তমানে আঠারো ঘন্টায় উন্নীত হয়েছে। একই সাথে এটি টেরিস্ট্রিয়াল চ্যানেল হিসেবে সমগ্রদেশে সম্প্রচার হচ্ছে। এখন দেশের ৭০ ভাগ এলাকায় এটির কভারেজ রয়েছে। আমি বিটিভির মহাপরিচালকে ইতিমধ্যে বলেছি যে রংপুরেও একটি এ্যানালগ টেরিস্ট্রিয়াল যন্ত্র বসানোর জন্য। তাহলে আমাদের প্রচার কার্যক্রম এখন যেটি ৭০ ভাগ আছে তা পচাশি ভাগ হতে নব্বই ভাগে উন্নীত হবে। এখন বিটিভি চট্রগ্রাম কেন্দ্র ক্যাবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সারা দেশে যেমন দেখা যাচ্ছে, সারা বিশ্বেও ক্যাবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। এখন বিটিভির দুটি নতুন টেরিস্ট্রিয়াল চ্যানেল। একটি ঢাকা কেন্দ্র টেরিস্ট্রিয়াল চ্যানেল এবং অন্যটি চট্রগ্রাম কেন্দ্র টেরিস্ট্রিয়াল চ্যানেল ।
মন্ত্রী আরও বলেন বিটিভি ওয়াল্ড টেরিস্ট্রিয়াল চ্যানেল নয়, বিটিভি ওয়াল্ড ক্যাবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং বিটিভি সংসদ আমাদের কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত হয় এবং আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছি দেশে আরও ছয়টি ক্যাবল নেটওয়ার্ক স্থাপনের।

তিনি নতুন তালিকাভুক্ত সংগীত শিল্পীদের উদ্দেশ্য বলেন, এটি কোন আঞ্চলিক কেন্দ্র নয়, এটি জাতীয় কেন্দ্র। এখানে কেউ পারফরমেন্স করলে সারা দেশ দেখতে ও শুনতে পাবে। এ কথা চিন্তা করেই প্রোগ্রাম ব্যাবস্থাপনা করতে হবে। তিনি আরও বলেন মঞ্চ নাটক হল আসল বিষয়,যেখানে শিল্পী তৈরি হয়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জনাব এম. রেজাউল করিম চৌধুরী, জনাব মোঃ মিজান উল আলম, অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রচার), তথ্য মন্ত্রণালয় এবং আহমেদ ইকবাল হায়দার বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব ও সাংস্কৃতিক কর্মী।

অনুষ্ঠানে মেয়র এম.রেজাউল করিম চৌধুরী নবীন শিল্পীদের উদ্দেশ্য বলেন, যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে এখানে নবীন শিল্পীরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন আপনারা মনন শীলতা ও মেধা দিয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্রগ্রাম কেন্দ্রকে আরও উন্নত করবেন।
অতিরিক্ত সচিব মোঃ মিজান উল আলম বলেন, তথ্যমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্রগ্রাম কেন্দ্রের জন্য একটি পঞ্চাশ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব ও সাংস্কৃতিক কর্মী আহমেদ ইকবাল হায়দার বলেন, আজকের নতুন শিল্পীদের কাজ করার সময় দেশের কথা মাথায় রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক জনাব সোহরাব হোসেন বলেন, আজকের দিনটি অত্যন্ত আনন্দের। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হবার পর বহুবছর পর নবীন শিল্পীদের অন্তভুক্ত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্রগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার জনাব নিতাই কুমার ভট্রাচার্য।

বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্রগ্রাম কেন্দ্রের নতুন তালিকাভুক্ত শিল্পীর সংখ্যা পাঁচশত জন। সংগীত বিভাগে ৩৯৯ জন, উপস্থাপক ও উপস্থাপিকা ৩৬ জন, অনুষ্ঠান ঘোষণায় ৯ জন, বাংলা সংবাদপত্র পাঠ ১৪ জন এবং ইংরেজি সংবাপত্র পাঠ ৮ জন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্রগ্রামের বিশিষ্ট সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী, সরকারি কর্মকর্তাসহ বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

সিএসপি/কেসিবি/৯ঃ৫২পিএম

ট্যাগ :