মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সময় : দুপুর ১:৩৬

কারাগারে বন্দী নির্যাতন;জেলসুপারসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত পিবিআই’র হাতে


প্রকাশের সময় :৪ মার্চ, ২০২১ ৭:৪৮ : অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রূপন কান্তি নাথ নামের এক হাজতিকে বৈদ্যুতিক শক ও বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে হত্যা চেষ্টা করার অভিযোগে জেল সুপার, জেলার, চিকিৎসকসহ চার জনের বিরুদ্ধে করা মামলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

হাজতির স্ত্রী ঝর্ণা রানী দেবনাথের আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডেভোকেট ভুলন লাল ভৌমিক বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দেওয়া নির্দেশনা মেনেই মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার আবেদন করেছি। আদালত শুনানী শেষে পিবিআইকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া বন্দি ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে নতুনভাবে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনের ১১ ধারায় আরও একটি পিটিশন দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার (১ মার্চ) রূপম কান্তি নাথ নামে ওই হাজতিকে বৈদ্যুতিক শক ও বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনে জেল সুপার, জেলার, কারা হাসপাতালের চিকিৎসক ও মামলার বাদী রতন ভট্টাচার্যকে অভিযুক্ত দ্বিতীয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হোসাইন মোঃ রেজার আদালতে অভিযোগ দেন। এদিন আদালত অভিযোগটি আমলে নিলেও কোন আদেশ দেননি। পরদিন আদালত অভিযোগটি ‘উপযুক্ত আদালতে’ পুনরায় তোলার আদেশ দেন।

মামলায় সাতকানিয়া উপজেলা কালিয়াইশ ইউনিয়নের মৃত বিশ্বেশ্বর ভট্টাচার্যের ছেলে রতন ভট্টাচার্য, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার, জেলার ও জেলখানার কর্তব্যরত এক সহকারী সার্জনকে বিবাদী করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও হেফাজত মৃত্যু নিবারণ আইন ২০১৩ এর (১ ও ২) এবং ক, খ , গ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

ঝর্ণা রানী দেবনাথ আদালতে দাখিল করা অভিযোগে দাবি করেন, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর তার স্বামী ভিকটিম রূপম কান্তি নাথ জিআর ৩৩২/১৮ নম্বর মামলায় সুস্থ অবস্থায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে যান। ভিকটিম থেকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে সম্মতি আদায়ের জন্য অভিযুক্ত বিবাদীরা পরস্পরের যোগসাজসে চট্টগ্রামের কারাগারের সাঙ্গু ১ নম্বর ভবনে গত ফেব্রুয়ারি মাসের ২৪ ও ২৫ তারিখের যেকোন সময় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বৈদ্যুতিক শক ও বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করে কারাবন্দি রূপম কান্তি নাথকে হত্যা চেষ্টা করা হয়।

এমন সংবাদ পেয়ে স্ত্রীর পক্ষে রূপমের আইনজীবী তার সঙ্গে দেখা করেন। পরে হাজতি রূপমকে উন্নত চিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে মহানগর জজ আদালতে আবেদন করেন আইনজীবী। আদালত আবেদন মঞ্জুর করলে ২৮শে ফেব্রুয়ারি তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের এমএক্স ১২ নম্বর বেডে ভর্তি করানো হয়। এ ঘটনার পর বাদী ঝর্ণা হাসপাতাল পরিচালকের কাছে আলামত সংগ্রহ করে রাখতে আবেদনও করেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কারা কর্তৃপক্ষের তত্ববধায়নে চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের এমএক্স ১২ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন ভিকটিম রূপন কান্তিনাথের মুখ, হাতসহ সারা গায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার অন্ডকোষে আগুনের ছ্যাঁকা দেয়ার মতো চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুরো অন্ডকোষ, পুরুষাঙ্গসহ বিভিন্ন স্থান আগুনে ঝলসে গিয়ে মাংসপিণ্ড খসে পড়ার মতো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। তাছাড়া রোগীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

এদিকে গতকাল বুধবার মহানগর দায়রা জজ আদালত রূপন কান্তি নাথকে জামিন দিলেও যথাসময়ে জামিননামা দাখিল করতে না পারায় আজ বৃহস্পতিবার তার জামিন বাতিল করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার রফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের এখানে এই ধরনের নির্যাতনের কোন সুযোগ নেই। তারপরও যেহেতু অভিযোগ উঠেছে আমরা বিষয়টিকে সত্য বলে ধরে নিয়ে তদন্ত করছি। তাছাড়া আদালত ও তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। দেখা যাক তদন্তে কি বেড়িয়ে আসে। বন্দীর স্ত্রীর অভিযোগ ও ডাক্তারের দেওয়া তথ্য মতে বন্দীর শরীরে বিশাক্ত ইনজেকশান পুশ ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান সে তো এমনিতেই অসুস্থ , ঠিকমত উঠে দাঁড়াতে পারে না ,তাকে বিশাক্ত ইনজেকশান পুশ ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার কি আছে। বন্দীর শরীরে বিশাক্ত ইনজেকশান পুশ ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার মত কোন ঘটনা ঘটেনি। কারাগারে শত শত লোকের সামনে এটা কোনভাবে সম্ভব নয়।

সিএসপি/কেসিবি/৭ঃ৪৪পিএম

ট্যাগ :