রোববার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সময় : রাত ১১:২৬

কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কক্সবাজার ভূমি অফিসের দালাল সহ আটক দুই


প্রকাশের সময় :২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ১:১৮ : অপরাহ্ণ
সিএসপি নিউজ : অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণ থেকে কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সার্ভেয়ারসহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শনিবার (২৩ জানুয়ারি) নগরীর খুলশী থানার জাকির হোসেন সড়কে ওমরগণি এমইএস কলেজের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত কার্যালয়-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন।

গ্রেফতার দু’জন হলেন—কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সার্ভেয়ার কেশব লাল দেব (৩৯) এবং ভূমি অফিসের ‘শীর্ষ দালাল’ হিসেবে চিহ্নিত মুহিব উল্লাহ (৪০)।
শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘কক্সবাজার জেলায় ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় কমিশন বাণিজ্যের কিছু অভিযোগ পেয়ে দুদক অনুসন্ধানে নামে। তদন্তে আমরা জেলা প্রশাসনের সার্ভেয়ার কেশব লাল দেব এবং ভূমি অফিসের ‘শীর্ষ দালাল’ হিসেবে চিহ্নিত মুহিব উল্লাহ’র সম্পৃক্ততা খুঁজে পাই। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় শনিবার দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কারা, কোন প্রক্রিয়ায় কমিশন গ্রহণ করে, এর সঙ্গে কারা কারা জড়িত, আমরা অনুসন্ধান করছি। এই চক্রে আরও যারা জড়িত, তাদের সবার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
দুদক সূত্রে জানা গেছে, আসামি মহিব উল্যাহ প্রিমিয়ার ব্যাংক কক্সবাজার শাখায় আব্দুর রহিমের ০৫১২১৩১০০০০০১১৬ নম্বর অ্যাকাউন্টে ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত মালিক হিসেবে চেক পাস হতে না হতেই ২০১৭ সালের ২৪ জানুয়ারি ২৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা, একই বছরের ৯ মার্চ ৩৩ লাখ ৫৪ হাজার টাকা মহিব উল্যাহ নিজ নামীয় প্রিমিয়ার ব্যাংকের ০৫১২১৩১০০০০০০৪০ নম্বর অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে নেন। এছাড়া মুহিব উল্লাহার ওয়ান ব্যাংক কক্সবাজার শাখার ০২৬২০৭০০০৬১২৫ নম্বর অ্যাকাউন্ট থেকে এক বছর ৭ মাসের ব্যবধানে ১১ কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার ৯০ টাকা ট্রান্সফার হয়।
এই অ্যাকাউন্ট বিভিন্ন সময়ে বিশাল অঙ্কের ক্যাশ টাকা জমা হওয়া এবং বিভিন্ন ব্যক্তির টাকা উত্তোলন, বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা যায়, যেই তারিখ ক্যাশ টাকা জমা হয়েছে ঠিক তার আগে ও পরে তার একটি বিশাল অঙ্কের টাকা ভূমি অধিহণ শাখার সার্ভেয়ার থেকে কানুনগো বা জেলা প্রশাসকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার জন্য প্রদান করা হয়েছে।
দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, অধিগ্রহণের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা কর্মচারীর বসবাস বা তাদের নিকট আত্মীয় আছে মূলত সেই সব স্থানে বিভিন্ন ব্যাংকে আরটিজিএস করে টাকা প্রেরণ করা হয়েছে, আর স্থানীয় যারা মুহিব উল্লাহ’র অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করেছে, তারা প্রত্যেকেই তার সিন্ডিকেটের লোক এবং ভূমি অফিগ্রহণের অবৈধ ঘুষ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। ভূমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার পর তাদের কাছ থেকে নগদে উত্তোলন করে উক্ত টাকা হতে মুহিব উল্লাহ নিজ অংশ রেখে বাকি টাকা ঘুষবাবদ সার্ভেয়ারসহ ভূমি অধিগ্রহণ শাখার অন্যান্য কর্মকর্তার নিজস্ব লোকদের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পাচার করে দিতেন।