শনিবার, ৩ এপ্রিল ২০২১, ২০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, সময় : বিকাল ৫:২৭

শিরোনাম

চট্টগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে মহান স্বাধীনতা দিবসের পতাকা উওোলন ও কুচকাওয়াজ প্রদর্শন


প্রকাশের সময় :২৬ মার্চ, ২০২১ ৫:৫৪ : অপরাহ্ণ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
জঙ্গিবাদ, দূর্নীতি ও শোষণমুক্ত উন্নত দেশ গড়ার প্রত্যয়ের অঙ্গীকারের মধ্যদিয়ে শুক্রবার ৫১ তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উৎযাপন করেছে গোটা জাতি।

আজ শুক্রবার ২৬ মার্চ সৃর্যোদয়ের সাথে সাথে ভোর ৫.৫১ মিনিটে কোর্ট হিলে ৩১ বার তোপধ্বনির দেওয়ার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন জানানো হয়।

একই সাথে সৃযোদয়ের সাথে সাথেই চট্রগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পূস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি চটগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ তাদের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানান। যুগপৎভাবে সৃযোদয়ের সাথে সকল সরকারি, আধা-সরকারি,স্বায়ওশাসিত এবং বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উওোলন করা হয়।

সকালে চট্রগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান সিটি মেয়র আলহাজ্ব এম.রেজাউল করিম চৌধুরী, পরে একে একে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, উওর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম, সাবেক মন্ত্রী আফছারুল আমীন, বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদ এনডিসি। নগর পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। চট্রগ্রাম উন্নয়ন কতৃপক্ষ (সিডিএ) এর চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম সহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, কৃষকলীগ ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এছাড়াও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, জীবন বিমা কর্পোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর চট্রগ্রাম অঞ্চল ও মহানগর, এনজিও ফেডারেশন সহ বিভিন্ন সামাজিক,সাংস্কৃতিক ক্রীড়া সংগঠনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল ৮টা থেকে নগরীর এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উওোলন এবং কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদ এনডিসি। সম্মানিত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আনোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর, পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক। অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান । এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ চট্রগ্রামের বিশিষ্ট সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী, সরকারি কর্মকর্তাসহ বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।

আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উওোলন এবং কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদ এনডিসি। তিনি এসময় সম্মানিত অতিথিদের নিয়ে ফেস্টূন সম্বলিত বেলুনও আকাশে অবমুক্ত করেন।

প্রধান অতিথি বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদ এনডিসি এসময় তার মুল্যবান বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন আজ বাঙালীর জীবনে এক গৌরবউজ্জ্বল দিন। ত্রিশ লাখ শহীদ আর অগনিত মা -বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এ স্বাধীনতা। মহান স্বাধীনতা উৎযাপনের এই মাহেন্দেক্ষণে দাঁড়িয়ে আমি বিন্ম্র শ্রদ্ধায় স্মরন করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে। যার জন্মশত বার্ষিকীতে পালিত হছে মুজিববর্ষ। গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী শাহাদাত বরণকারী জাতির সূর্যসন্তান জাতীয় চার নেতাসহ, বীরবিক্রম, বীরউওম, বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত সহ অগনিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এবং চট্রগ্রামের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণকারী সকল শহীদদের।

তিনি বলেন প্রিয় চট্রগ্রামবাসী, আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা লাভ করি। লাল সবুজের পতাকা বাঙালির শ্বাশত অর্জনকে ইতিমধ্যেই বিশ্ব্বের দরবারে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করেছে। আজ বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। বঙ্গবন্ধু তার ৭ই মার্চ ভাষণে মুক্তি স্বাধীনতার কথা বলেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘকাল পরে ইউনেস্কো ২০১৭ সালেবঙ্গবন্ধুর ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিয্য হিসেবে ঘোষণা করে।

তিনি আর ও বলেন ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শাসনভার হাতে নেওয়ার পর দীর্ঘ মেয়াদি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য রেখে রুপকল্প ২০২১ ঘোষণা করে। বঙ্গবন্ধু কন্যার দূরদুর্ষী নেতৃত্বের কারণেই বিভিন্ন প্রতিকুলতা সও্বেও উন্নয়ন কর্মকান্ড অব্যাহত রয়েছে। এরই আন্তজার্তিক স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘ ২০১৮ সালে এবং ২০২১ সালে পূনরায় জাতিসঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ ও মধ্যম আয়ের দেশ উন্নীত হওয়ার যে স্বপ্ন ২০০৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেখিয়েছেন সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবে পরিনত হয়েছে।।যা বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য অর্জন। বাংলাদেশের সকল জেলা ও উপজেলায় আগামী ২৭ ও ২৮ শে মার্চ এই স্বীকৃতি উৎযাপন করা হবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় ধ্বনি পরিচালনা করেন প্যারেড কমান্ডার মোঃ মহসিন মজুমদার। পরবর্তীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ, কারারক্ষী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বি.এন.সি.সি, বাংলাদেশ স্কাউটস, জেলা আনসার, গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, জেলা নৌ কম্যান্ডাস, রেড ক্রিসেন্ট, জেলা গার্লস গাইড, রেঞ্জার ইউনিট কর্তক কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করা হয়।

অংশগ্রহণকারী সকল দলকে শুভেচ্ছা স্মারক ও ক্রেস্ট প্রদান করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চট্রগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদ এনডিসি।

অনুষ্ঠানের সভাপতি চট্রগ্রাম বিভাগের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান অংগ্রহনকারী সকল দলকে শুভেচ্ছা ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

সিএসপি/কেসিবি/৫ঃ৪৮পিএম

ট্যাগ :