রোববার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ৫ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সময় : রাত ১১:৩৯

চট্টগ্রামে গুমাই বিলের বোরো ধানের বাম্পার ফলন শুরু


প্রকাশের সময় :২০ মার্চ, ২০২১ ১:৩৯ : অপরাহ্ণ

সিএসপি নিউজ : শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত রাঙ্গুনিয়ার গুমাই বিলে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে সবুজ ধানের চারা বেড়ে উঠেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গুমাই বিলসহ উপজেলায় ৫ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৭ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে।
গত মৌসুমে রাঙ্গুনিয়ায় ৪৯ হাজার ৯৩১ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হয়। ধান ও চালের ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় এবছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি আবাদ হয়েছে।
চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের বাম পাশের বিশাল এলাকার কৃষিজমি গুমাই বিল নামে পরিচিত। বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিলগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বড়।
জানা যায়, গুমাইবিলে প্রতি বোরো মৌসুমে দেড় হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হয়। এবছর প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক মিজানুল ইসলাম জানান, ৬ হেক্টর জমিতে বোরো চাষে হেক্টর প্রতি প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়ায় জমিতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে। প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে এ বছর ভালো ফলন পাবো।
গুমাই বিলের কৃষক মীর উদ্দিন জানান, ৫ হেক্টর জমির মধ্যে ৪ হেক্টরে বোরো এবং ১ হেক্টরে বেগুনি রঙের ধান চাষ করেছি। কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী হাইব্রিড বীজ রোপণ করে জমিতে সার দিয়েছি। আশা করছি এবার ফলন ভালো হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার বলেন, কৃষি অফিসের উদ্যোগে মাঠ পর্যায়ে তদারকি ও কৃষকদের প্রতিনিয়ত পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। সময়মতো কীটনাশক প্রয়োগ ও কীট-বালাই দমনে প্রাকৃতিক পদ্ধতির ব্যবহার করেছেন কৃষকরা। আবহাওয়া ভালো থাকলে এবার বোরোর বাম্পার ফলন হবে।
প্রবাদ আছে, গুমাই বিলে এক মৌসুমের উৎপাদিত মোট ধান দিয়ে সারা দেশের আড়াই দিনের খাদ্য চাহিদা মেটানো যায়। চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের পাশে রাঙ্গুনিয়ার নিশ্চিন্তাপুর পাহাড়ের পাদদেশে চন্দ্রঘোনা, মরিয়মনগর, হোসনাবাদ, স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া, লালানগর ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে গুমাই বিলের অবস্থান।
১৯৪৫ সালে রাঙ্গুনিয়ার মরহুম আব্দুল বারী তালুকদার গুমাই বিল সংস্কার করে আধুনিক চাষাবাদ শুরু করেন। ১৯৮০- ৮১ সাল থেকে গুমাই বিলের জমি শুষ্ক মৌসুমে সেচের আওতায় আনা হয়। এই বিলের পলিবাহিত জমি বেশ উর্বর। এখানকার কৃষকদের দাবি, ধান বিক্রিতে বরাবরের মতো ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি যেন নিশ্চিত করা হয়।