বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০ ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, সময় : ভোর ৫:১৪

চট্টগ্রামে পুরাতন কালুরঘাট এলাকায় আটা ময়দা দিয়ে তৈরি হচ্ছে ওষুধ প্রতারক আটক


প্রকাশের সময় :২০ নভেম্বর, ২০২০ ৭:৪৬ : অপরাহ্ণ
সিএসপি নিউজ : একটি ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়ে গত দুই বছর ধরে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল ওষুধ বানিয়ে বিক্রি করছিল হোসেন নামের (৪০) এক প্রতারক। তার বাড়ি চাঁদপুর হলেও নকল এই ওষুধ তৈরির কারাখানা গড়েছিল নগরীর চান্দগাঁও থানার মোহরার পুরাতন কালুরঘাট এলাকায়। আটা, ময়দা ও নানা কেমিক্যাল দিয়ে একই রকমের ওষুধ তৈরি করে তা নানা মোড়কে ভিন্ন রোগের জন্য ভিন্ন নামে বিক্রিও করছিল সে। তবে শেষ পর্যন্ত নগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে তাকে আটক হতে হয়েছে।

শুক্রবার (২০ নভেম্বর) সকালে নগরীর চান্দগাঁও থানার মোহরার পুরাতন কালুরঘাট এলাকার বেলালের বিল্ডিং থেকে হোসেন নামের এই প্রতারককে আটক করে ডিবি’র (উত্তর) একটি টিম। সেখান থেকে নকল ওষুধ তৈরির নানা সরঞ্জামের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ভুয়া ওষুধ জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গুজরা নোয়াপাড়া এলাকার মো. আজিজুল হকের পুত্র মোহাম্মদ মাহমুদুল হক (৪৫) পলাতক রয়েছে।
অভিযানকালে ডিবির উত্তর বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ আলী হোসাইন জানিয়েছেন, নগরের একেবারে পূর্ব প্রান্তে নিরিবিলি গ্রাম্য পরিবেশে জনৈক বেলালের ভাড়া করা ফ্ল্যাটে হোসেন নামের একজন নকল ওষুধ তৈরির কারখানা স্থাপন করে। তবে সেখানে কি হচ্ছিল তা স্থানীয় বাসিন্দারা কখনো টেরও পেতেন না। সব সময় দরজা বন্ধ করেই এই ধরনের নকল ওষুধ তৈরি করতো। গত দুই বছর ধরে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলো সে। একই ধরনের ওষুধ ভিন্ন ভিন্ন নামে বাজারজাতও করে আসছে সে। যার ফলে রোগীর সুস্থতার বদলে অসুস্থ হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর মুখোমুখি হবার কথা এসব নকল ওষুধ খেয়ে। এ ঘটনায় তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানানোর কথা বলেন ডিসি আলী হোসেন।
শুক্রবার (২০ নভেম্বর) বিকাল ৩টার দিকে ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ আলী হোসেন ও অতি. উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-উত্তর) পংকজ দত্ত’র নির্দেশনায় অভিযান চালানো হয়।
নগর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক হাসান ইমান বলেন নগরীতে একটি সংঘবদ্ধচক্র দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানীর ওষুধের নাম ব্যবহার করে ভেজাল ওষুধ তৈরি করে বেশি দামে বাজারজাত করে আসছে। এমনকি তারা নিজস্ব কেমিস্ট নিয়োগ করে ও ওষুধ তৈরির বিভিন্ন নিম্নমানের ক্যামিকেল দিয়ে ওষুধ তৈরি করে বিভিন্ন ফার্মেসিতে সরবরাহ করত।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিভিন্ন ক্যামিকেল দিয়ে তারা Kho Max, Excitement, Monfedin, Max-Life, Home Cap, k-xin, Gross-up, KZ bio bar নামে ওষুধগুলো তৈরি করছে। বাংলাদেশ যৌন উত্তেজক ওষুধের চাহিদা বেশি থাকায় তারা বিদেশি বিভিন্ন ওষুধের নাম ব্যবহার করে অধিক দামে তাদের পরিচিত ফার্মেসিতে বিক্রয় করে আসছে। অভিযানের সময় তারা বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে চান্দগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভেজাল ওষুধ তৈরি চক্রের পলাতক মাহমুদুল হককে ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।