সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সময় : সকাল ৯:৩২

চট্টগ্রাম কাস্টমসের ২৯৮ কনটেইনার পণ্য ধ্বংসের নামে পাচার কার্যক্রম শুরু !


প্রকাশের সময় :৩০ মার্চ, ২০২১ ৮:১৩ : অপরাহ্ণ

মো:ওমর ফারুক বাবু : চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানী করা পণ্য ৩০ দিনের মধ্যে খালাস না করলে আমদানিকারককে ১৫ দিনের নোটিশ দিয়ে ওই পণ্য নিলামে তোলে কাস্টম হাউস। মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্যসহ বিভিন্ন আইনি জটিলতায় দীর্ঘদিন যাবৎ পড়ে থাকার কারণে নষ্ট হয়ে যাওয়া পণ্যের কনটেইনার সরবরাহকারী প্রতিষ্টান নিজ খরচে ধবংসের উদ্যেগ নিলেও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ডাম্পিং স্টেশনে কাস্টমসের বর্জ্য ধংসে অনিহা কাষ্টম কর্মকর্তাদের।

চট্টগ্রাম বন্দর সুত্রে জানা যায় চট্টগ্রাম বন্দরের Carbage Cleaning Contractor  লাইসেন্স বিহীন একটি চক্র দীর্ঘদিন যাবৎচট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমসের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যনেজ করে যত্রতত্র লোক দেখানো কয়েকটি কনটেইনার ধংস করে বাকী কনটেইনার পাচারের ফলে কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের নষ্ট পণ্য ধ্বংস করার নিয়ম থাকলেও কাস্টমস অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় রাতের আঁধারে একটি চক্র কোটি কোটি টাকার পণ্য পাচারের অভিযোগ উঠেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানায়, ২৯৮ কনটেইনার পণ্য ধ্বংসের কার্যক্রম শুরু করেছে কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। গত ২৯ মার্চ বিভিন্ন ডিপো থেকে ২৭ কনটেইনারের পণ্য ধ্বংসের ফটো সেশন করা হলেও অধিকাংশ কন্টেইনার নষ্ট না করে বাইরে পাচার করা হচ্ছে এমনই অভিযোগ উঠেছে। গত বছরে জানুয়ারী মাসে কন্টেইনারের কাষ্টমসের ধ্বংস করা পণ্য পাচারের সময় র‌্যাব-৭ কর্তৃক  চোরাচালান চক্রের ৩ সদস্যকে ১০ কন্টেইনার পণ্যসহ আটক করা হলেও কাষ্টম কর্তৃপক্ষ মামলা করতে রাজী না হওয়া র‌্যাব-৭ ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাদেও ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা করে।

চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর হালিশহরের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন রোডের চৌধুরী পাড়াস্থ পাচারকারী চক্রের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করেন। কাস্টমসের ধ্বংস কাজে অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠান কে. এম করপোরেশনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বন্দরের বৈজ্য অপসারনের (Carbage Cleaning Contractor) সংক্রান্ত কোন লাইসেন্স না থাকলে অবৈধভাবে লেনদেনের মাধ্যমে ধ্বংস কার্যক্রমের অনুমতি দেওয়ার অভিযাগ রয়েছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম সচেতন নাগরিক কমিটির পক্ষে নিউটন দাশ নামক এক ব্যক্তি কাস্টমসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নষ্ট পণ্যের কন্টেইনারগুলো ধ্বংস করার নামে চোরাচালানকারী প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় পাচারের অভিযোগ কওে অর্থ মন্ত্রনালয়, নৌ-মন্ত্রনালয়, বন্দর চেয়ারম্যান, মহাপরিচালক পরিবেশ অধিদপ্তর, এনবিআর চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসন ও চসিক মেয়রের দপ্তরে অভিযোগ করেন।

জানা যায় গত ২১মার্চ কাস্টম হাউসে কন্টেইনার ধ্বংস কমিটির এক সভা ডাকা হয়। সভায় সিটি কর্পোরেশনের ডাম্পিং এ কন্টেইনারগুলো ধ্বংস করার প্রস্তাব আসে। সেখানে পরিবেশ অধিদপ্তর ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনসহ অধিকাংশ কমিটির সদস্য সম্মতি দিলেও কাস্টমস কর্মকর্তারা অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।  কন্টেইনারগুলো ধ্বংসের দিন তারিখ নির্ধারণ করে গণমাধ্যমে সংবাদ সম্মেলন করার কথা আগে থেকে জানিয়ে আসছিল চট্টগ্রাম কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার ও নিলাম কমিটির আহ্বায়ক এ.কে. এম সুলতান মাহমুদ। গত ২৫ মার্চ ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালনা কমিটি থেকে জেলা প্রশাসন, বন্দর কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন, সিএমপি, পরিবেশ অধিদফতর, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক হলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিল না। অনেকাংশ গোপনে সংবাদ পত্র বন্ধের দিনে এধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা রহস্যজনক। কন্টেইনার ধ্বংসের দিনে কাস্টমস ডেপুটি কমিশনার (প্রশাসন) রহমান বিন ফয়সাল উপস্থিত থাকলেও অন্য কোন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিল না।  কাস্টমসের নষ্ঠ ধ্বংসের কাজের অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠান কে. এম কর্পোরেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ মোরশেদ আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে নিলাম কমিটির সদস্য সচিব ও কাস্টমস ডেপুটি কমিশনার এ. কে. এম সুলতান মাহমুদ জানান, কন্টেইনারের মালামাল নষ্টে কোন ধরণের অভিযোগ পেলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া হবে, নগরীর বাইরে এবং রাতে বন্ধের দিনে নষ্ট কন্টেইনার নেয়া নিষেধ রয়েছে, কে. এম কর্পোরেশনের লাইন্সের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিষয়টি কাস্টমসের ডিসি (প্রশাসন) ভাল বলতে পারবেন বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে উক্ত নষ্ট কন্টেইনার ধ্বংস কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদ আলম চৌধুরী জানান, বৈঠকে তাদের কথাবার্তা সুবিধাজনক মনে হয়নি। আমি সিটি কর্পোরেশনের ডাম্পিং এ নষ্ঠ করার প্রস্তাব দিলে তারা রাজি হয়নি, রাজি না হওয়ার কারণ খুঁজে পাচ্ছি না, এই ধ্বংস কার্য্যক্রম চসিক ডাম্পিং করলে কাষ্টম কর্মকর্তাদের আপত্তি কেন তাদের অন্যকোন মতলব এর পেছনে কাজ করছে কিনা জানিনা।

চট্টগ্রাম বন্দরের নষ্ট কন্টেইনার ধ্বংস কমিটির সদস্য এসি বন্দর জোন কীর্তিমান চাকমা জানান সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৫ কন্টেইনার পণ্য ধ্বংস করা হয়েছে আরো ২টি কন্টেইনার রাতে করার কথা ছিল।