মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ৭ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সময় : দুপুর ১:১৯

চট্রগ্রাম নগরীতে বিয়ের কারনে বরের প্রান গেল প্রেমিকের হাতে


প্রকাশের সময় :৮ ডিসেম্বর, ২০২০ ৭:২৮ : অপরাহ্ণ

 সিএসপি নিউজ : দুই বছর আগে রুপিয়াকে বিয়ে করে ইব্রাহিম। এতে ইব্রাহিমের ওপর ক্ষোভ তৈরি হয় রুপিয়ার প্রেমিক আজহারের। সেই ক্ষোভ থেকে ইব্রাহিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে আজহার। পরিকল্পনা অনুযায়ী আজহার নিজের খালাতো ভাইয়ের মাধ্যমে ভাড়াটে খুনি ঠিক করে। পরে তাকে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে ইব্রাহিমকে হত্যা করায় আজহার। টাকার বিনিময়ে গত ২৭ নভেম্বর রাতে খুনিরা ইব্রাহিমকে গলা কেটে হত্যা করে। পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য।

ঘটনাটি ঘটে চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর থানাধীন আনন্দবাজার সাগর পাড়ে। গত ২৮ নভেম্বর ওই এলাকার ঝাউবাগান থেকে এক কিলোমিটার পশ্চিমে সাগর পাড় থেকে ইব্রাহিমের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ইব্রাহিম খলিল (৩৫) নোয়াখালী জেলার চরজব্বর থানার মোহাম্মদপুর গ্রামের মো. ওয়াজ দৌল্লার ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা এলাকায় বিএসআর ডিপোতে শ্রমিকের কাজ করতেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গাজী ফৌজুল আজিম বলেন ২৮ নভেম্বর সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইব্রাহিমের মরদেহ উদ্ধার করে। তখন ঘটনাটি আমাদের কাছে ক্লুলেস ছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে আমরা ইব্রাহিমের পরিচয় শনাক্ত করি। এরপর থানায় মামলা দায়েরের পর আমরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু করি। একপর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত দুজনকে শনাক্ত করি। এরপর গত ৪ ডিসেম্বর নোয়াখালীর চরজব্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোহাগ ওরফে সোহেল ওরফে ফরিদ (৩০) ও মো. রাসেল প্রকাশ শামীমকে গ্রেফতার করি। গ্রেফতার দুই আসামির মধ্যে শামীম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। অপর আসামি সোহাগকে রিমান্ডে পুলিশে হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’
গ্রেফতার সোহাগ রুপিয়ার প্রেমিক আজহারের খালাতো ভাই। সে নোয়াখালীর চরজব্বর থানার চরলক্ষ্মী গ্রামের সেকান্দর হোসেনের ছেলে। আসামি শামীম তার সঙ্গে সিটি গেট এলাকার গোল্ডেন ডিপোতে কাজ করতো। তার গ্রামের বাড়ি চরজব্বর থানার চরক্লার্ক এলাকায়।
ঘটনার বর্ণনায় গাজী ফৌজুল আজিম বলেন দুই বছর আগে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর ইব্রাহিম সুবর্ণচর এলাকার রুপিয়াকে বিয়ে করেন। রুপিয়াও বিবাহিত ছিলেন। সাত বছর আগে তার স্বামী মারা যান। এরপর রুপিয়ার যাবতীয় খরচ প্রেমিক আজহার দিতো। আজহার তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল, কিন্তু স্ত্রী থাকায় রুপিয়া তাকে বিয়ে করতে রাজি হননি। এ কারণে রুপিয়া ইব্রাহিমকে বিয়ে করেন। এই ঘটনায় ইব্রাহিমের ওপর ক্ষুব্ধ হয় আজহার। একপর্যায়ে তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইব্রাহিমকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে আজহার খালাতো ভাই সোহাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ইব্রাহিমকে হত্যার জন্য সোহাগকে ৪০ হাজার টাকা দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। সোহাগ বিষয়টি সহকর্মী শামীমের সঙ্গে শেয়ার করে। টাকা পাবে, এই লোভে তারা ইব্রাহিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন দুপুরে কামারের দোকান থেকে ৯০ টাকা দিয়ে একটি ছুরি কেনে তারা। পরে বিকাল ৩টার দিকে সোহাগ ফোন করে ইব্রাহিমকে ইলিশ মাছ নেওয়ার জন্য সিম্যান্স হোটেল এলাকায় আসতে বলে। ৪টার দিকে ইব্রাহিম সেখানে যাওয়ার পর সোহাগ ও শামীম তাকে নিয়ে সাগর পাড়ে কিছুক্ষণ সময় কাটায়। সূর্য ডুবে গেলে মাঝির কাছে যাবে বলে নৌকায় উঠে ডুবোচরে চলে যায় তারা। সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে সোহাগের ইশারায় শামীম ইব্রাহিমের গলায় ছুরি দিয়ে পোচ দেয়। এ সময় ইব্রাহিম দৌড়ে পালাতে গিয়ে কাদামাটিতে পড়ে যান। পরে সোহাগ দৌড়ে এসে তাকে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর লাশ পানিতে ফেলে চলে আসে তারা।