মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০ ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, সময় : সকাল ৯:২৫

চবি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপিকা ড. শাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে ঝাড়ুদার কর্মচারীকে নির্যাতনের অভিযোগ


প্রকাশের সময় :২২ অক্টোবর, ২০২০ ১১:৪৭ : অপরাহ্ণ

সিএসপি নিউজ : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রসায়ন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপিকা ড. শাহানারা বেগমের বিরুদ্ধে ওই বিভাগের ঝাড়ুদার হিসেবে কর্মরত এক কর্মচারীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্ব বহির্ভূত কাজ করিয়ে অসুস্থ হয়ে বিশ্রামে গেলে উল্টো দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও দিয়েছেন ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভুক্তভোগী কর্মচারী অনীল চন্দ্র দাস তাকে নির্যাতনের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) বরাবর লিখিতভাবে অবহিত করেছেন। তিনি বিজ্ঞান অনুষদ ও রসায়ন বিভাগের ঝাড়ুদারের কাজ করেন।
অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসান বলেন, এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এরকম অভিযোগ, সমস্যা কমবেশি থাকে। সবার বক্তব্য, সবকিছু শুনে আমরা সমাধান করবো।
অভিযোগকারী অনিল চন্দ্র দাস বলেন, বিজ্ঞান অনুষদের নিচ তলায় অনেকগুলো ল্যাব। আমাদের দুজনকে এসব দেখতে হয়। কিন্তু এর বাহিরেও বিভাগের সভাপতি আমাকে দিয়ে অনেক কাজ করান। কিন্তু কখনো একটু এদিক সেদিক হলে গালিগালাজও করেন তিনি। এছাড়া আরও বেশকিছু অভিযোগ আমি চিঠির মাধ্যমে রেজিস্ট্রার দফতরে জানিয়েছি।
রেজিস্ট্রার দফতরে জমা দেওয়া চিঠিতে অনীল চন্দ্র দাস উল্লেখ করেন, রসায়ন বিভাগের সভাপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পাহাড়ের মাটি কাটা, পাহাড়ে সবজি চাষ, পাহাড় থেকে লাকড়ি কাটা, পাহাড়ের জঙ্গল পরিষ্কার, রসায়ন বিভাগের বাইরে ও ভিতরে বিশাল এলাকা জুড়ে ফুল ও ফল বাগানের নানা ভারি কাজ আমাকে দিয়ে করানো হয়েছে। আমার দায়িত্ব শুধুমাত্র ঝাড়ু ও বাথরুম পরিষ্কার হলেও আমার কাজের পরিধি বহির্ভূত যাবতীয় কাজ বর্তমান সভাপতি অমানবিকভাবে আমাকে দিয়ে করিয়ে আসছেন। ফুল ও ফল বাগানে বিষ প্রয়োগের মত কাজও তিনি আমাকে দিয়ে করিয়ে থাকেন। এসব বিষের ক্রিয়ায় আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি।
এ বিষয়টি বিভাগের সভাপতিকে জানালে তিনি আমাকে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ করে থাকেন৷ তবুও আমি আপত্তি না জানিয়ে বিনা বাক্যে এসকল কাজ করে চলেছি। এক পর্যায়ে আমার হার্টে রোগ ধরা পড়ে। গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেডিকেলের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি হয়ে থাকি। ছাড়পত্র প্রদানকালে চমেক হাসাপাতালের চিকিৎসক আমাকে ১৪ দিন সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার নির্দেশ দেন। চবি মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকও একই নির্দেশ দেন। যা আমার কর্মস্থল বিজ্ঞান অনুষদের ডিন পাশ করেন। কিন্তু রসায়ন বিভাগের সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আমার বিরুদ্ধে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অবহেলার মনগড়া অভিযোগ দিয়ে তার অনৈতিক ক্ষমতা প্রদর্শনের চেষ্টা করছেন।
তিনি চিঠিতে আরও উল্লেখ করেন, আমি আরও জানতে পেরেছি, প্রফেসর ড. শাহানারা বেগম বিভাগের দায়িত্ব নেওয়ার পর তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ লোকমান হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে চাকরি দিতে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছেন। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত অভিযোগ তুলে প্রফেসর ড. শাহানারা বেগম তার ঘনিষ্ঠ লোকমান হোসেনকে চাকরি দেওয়ার পথ সুগম করতে চান।
এ বিষয়ে রসায়ন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহনারা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের প্রশাসনিক বিষয়। আর কোনো কথা বললে অফিসে এসে বলেন। আমি ফোনে কোনো বক্তব্য দিবো না।’