শুক্রবার, ০৬ অগাস্ট ২০২১, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন

চোরের মা’র বড় গলা

এম.এম.জাহিদ হাসান হৃদয়,(আনোয়ারা):

“চোরের মা’র বড় গলা” এই কথাটির যেন বাস্তব প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় গ্রাহকের টাকা নিয়ে রূপালী লাইফ ইন্সুইরেন্স এর কর্মকর্তা পারভীন আক্তারের এর নয়-ছয় করা এবং টাকা চাওয়াই গ্রাহককে মামলার হুমকি দেওয়ার ঘটনায়।

শনিবার (১২ জুন) পারভীন আক্তারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষদের উচ্চ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে ইন্সুইরেন্স পলিসি করানোর মাধ্যমে গ্রাহকদের লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ তুলে আনোয়ারা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মোঃ রিয়াদ নামের এক ভুক্তভোগী।

এসময় অভিযোগে বলা হয়,আমার আম্মু তাহেরা বেগম রূপালী লাইফ ইন্সুইরেন্সের একজন পলিসি গ্রাহক। পারভীন (৪২),তার স্বামী কাজী মোঃ আলমগীর (৪৪) এবং তার ছেলে মোঃ ফাহিম (২৪) তিন জনই সংঘবদ্ধভাবে আমার আম্মুসহ আরো বহু সাধারণ মানুষকে উচ্চ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে ইন্সুইরেন্স পলিসি করানোর মাধ্যমে আমাদের টাকা আত্মসাৎ করেছে। রূপালী লাইফ ইন্সুইরেন্সে থেকে পারভীনের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি আমরা জানতে পেরে তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে আমাদের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় সে। রূপালী লাইফ ইন্সুইরেন্সের অফিসে গিয়ে জানতে পারি ওনি গ্রাহকদের কিছু টাকা জমা দিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করে পেলার কারণে তার চাকরি চলে গেছে। শনিবার (১২ জুন) জমা দেওয়া টাকা উত্তোলনে পারভীন আক্তারের সাথে দেখা করতে তার নিজ বাড়িতে গেলে সে আমাদের সাথে চরম অসদাচরণ করে আমাদের ধারালো দা,চুরি নিয়ে মারতে উদ্যত হোন। এবং আমাদের লুট,নারী নির্যাতনের মামলা দিয়ে হয়রানি করবে বলেও হুমকি দেন।

জানা যায়,অভিযুক্ত পারভীন ৬নং বারাখাইন ইউনিয়নের ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক মহিলা মেম্বার ছিলেন এবং তার ছেলে অভিযুক্ত ফাহিম কিছুদিন আগে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়। এছাড়াও ফাহিমের বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারীসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

ঝর্ণা শীল নামে এক ভুক্তভোগী জানায়,মাসে ২শ টিয়া গরি ৩বছরল্লে ওগ্গো বীমা গরগি। পারভীন এবং তার জামাই আলমগীর বারিত আইয়েরে পত্তি মাসে মাসে টিয়া লই যেতু। ৩বছর শেষ অইয়ি কিন্তু এই ৩বছরত বীমা অফিসোর চিয়ারা ন দেহি।
প্রতিমাসে টাকা নেওয়ার পর রশিদ দেওয়া হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, হই! আরারে হ ন রশিদ তো ন দে।

এই সমস্ত অভিযোগের পাহাড় নিয়ে পারভীনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়াই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পারভীনের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পর্কে রূপালী লাইফ ইন্সুইরেন্স এর ম্যানেজার মোহাম্মদ সেলিম কথা হলে তিনি জানান, পারভীন আমাদের একজন কর্মকর্তা ছিলো, গত ১বছর আগে গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করার বিষয়টি জানতে পেরে ওনাকে চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হয়। চাকরি হারানোর পরও পারভীন ইন্সুইরেন্সের নাম ভাঙিয়ে গ্রাহকদের থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

থানায় অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে আনোয়ারা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সৈয়দ ওমর বলেন,ইন্সুইরেন্সের নামে টাকা আত্মসাতের বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি এই বিষয়ে তদন্ত চলতেছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুক পেইজ