শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২০ ২৩শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, সময় : বিকাল ৫:৫০

“জনবান্ধব পুলিশ”এসআই নাসিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে এলাকাবাসির ক্ষোভ


প্রকাশের সময় :১৩ জুলাই, ২০২০ ১০:১৬ : অপরাহ্ণ

নূর মোহাম্মদ শাওন:

দেশে-বিদেশে পুলিশের  প্রশংসনীয় ভূমিকার চেয়ে নেতিবাচক সমালোচনাই বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর ওই দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ হয়েছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের রূঢ় আচরণ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। অমূলক সন্দেহেও লোকজনকে হেনস্তা করার বিস্তর অভিযোগ। এত দিন পুলিশ বলতে জনগণ হয়তো তাই বুঝতো। কিন্তু করোনাকালে সেই বদ্ধমূল ভাবনার গায়ে মানবিকতার পরশ বুলিয়ে দিয়েছে তারা। তারা হয়ে উঠেছেন জনবান্ধব।

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন ব্যবস্থাপনা ও জননিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অসহায় মানুষদের খাদ্যসাহায্যেও হাত বাড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সংক্রমণের শিকার হয়েছে; মারাও গেছে। করোনাকালে পুলিশের জনকল্যাণকর ভূমিকা মানুষের প্রশংসা পাচ্ছে।

করোনা মহামারীর এই সময়ে এসকল মানবিক কার্যাবলী থেকে পিছিয়ে নেই চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। নগরীর বন্দর থানাধীন মধ্যম হালিশহর পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ এসআই মোঃ নাসির উদ্দিন এমনই নানা দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন অত্র এলাকায়।

প্রায় এক বছর যাবৎ তিনি এই ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বরত। এ ফাঁড়িটি ইপিজেড এরিয়া সংলগ্ন হওয়ায় এটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ ও জনবহুল এলাকা। এ সুযোগে এলাকায় গড়ে উঠেছিল অনেক অবৈধ জুয়ার আসর, পতিতালয় এবং মাদকের আখড়া। এসআই মোঃ নাসির এ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এ সকল অবৈধ কর্মকান্ড কঠোর হস্তে দমন করেন।

তার এরকম কর্মকাণ্ড এলাকাবাসী সাধুবাদ জানালেও, অবৈধ ঐ সকল কর্মকাণ্ড থেকে সুবিধাভোগী লোকজন এসআই মোঃ নাসিরের এই জিরো টলারেন্স নীতি মেনে নিতে না পেরে তার বিপক্ষে নানা প্রকার মিথ্যাচারে লিপ্ত।

এ বিষয়ে সরেজমিনে কয়েকজন এলাকাবাসীর সাথে কথা হলে তারা এসআই নাসির এর বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অত্র এলাকার ব্যবসায়ী মোঃ সাগর খান বলেন, অত্র এলাকায় আগে অনেক অবৈধ কার্যক্রম চলার পাশাপাশি অনেকেই চাঁদাবাজি করতো। পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোঃ নাসির আসার পর এসকল কর্মকান্ড বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাই, এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

মোঃ জসিম নামে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, লকডাউন চলাকালীন সময়ে দোকানপাট বন্ধ থাকায় তিনি তার পরিবার নিয়ে অনেক সমস্যায় ছিলেন এমতাবস্থায় তার পরিবারের নিকট এগিয়ে আসে মধ্যম হালিশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নাসির। তার সহযোগিতার জন্য তিনি এসআই মোঃ নাসিরের নিকট কৃতজ্ঞ।

অত্র এলাকার বাসিন্দা তাজনুল বেগম জানান তারা স্বল্প আয়ের মানুষ, লকডাউনে মানবেতর জীবনযাপন করছিলো মধ্যম হালিশহর পুলিশ ফাঁড়ির সহযোগিতায় তারা প্রায় এক মাসের খাবার পেয়েছিলেন।

লকডাউন চলাকালীন সময়ে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে মধ্যম হালিশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ নাসিরের নেতৃত্বে অন্যান্য অফিসাররা সার্বক্ষণিক মাঠে ছিলেন। তার এ ভূমিকাকেও অনেকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে মধ্যম হালিশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক মোঃ নাসিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিনকে বলেন, এই ফাঁড়িতে যোগদান করার পর থেকেই তিনি অত্র এলাকার বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এ সকল কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় অনেকের বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এর ফলে যেমন প্রশংসিত হয়েছেন আবার অনেকের সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন।

তিনি আরও যোগ করেন, লকডাউন চলাকালীন সময়ে সরকারি নির্দেশক্রমে বিকাল চারটার মধ্যে দোকানপাট বন্ধের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার ফলেও তাকে অনেক সমালোচিত হতে হয়েছিল।

প্রত্যেকটি কাজেরই ভালো ও মন্দ উভয় দিক থাকবে তবে কেউ মিথ্যাচার করলে বিষয়টি খারাপ লাগে। তারপরও তার এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড আগামীতেও চালিয়ে যাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।