সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০ ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, সময় : বিকাল ৩:৫২

ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন আগাছা বেশি হলে প্রয়োজন নেই কমিটিরতে


প্রকাশের সময় :৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ৯:২১ : অপরাহ্ণ

সিএসপি নিউজ : বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ও ভয়ঙ্কর মাদক ইয়াবা পাচার রোধকল্পে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন।

কমিউনিটি পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ডিআইজি বলেন, আগাছা বেশি হলে এখন থেকে আর কোনও কমিউনিটি পুলিশের প্রয়োজন নেই। কমিউনিটির সকল নাগরিক কমিউনিটি পুলিশের সদস্য। অপরাধ দমনে ও মাদক নির্মূলে সকল নাগরিক পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উখিয়া থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিংকালে  ডিআইজি আনোয়ার হোসেন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, উখিয়ার সীমান্ত এলাকাগুলোতে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য পাচার রোধে পুলিশের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে এবং মাদক কারবারিদের তালিকা করে তাদের রেকর্ড চেক করা হবে এবং তাদের বর্তমান ও অতীত সব কিছু যাচাই করে কঠোর ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।
ডিআইজি বলেন, এখন থেকে প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর অন্তর কক্সবাজারের  সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনে আসবো।  মাদকের জোন খ্যাত উখিয়া ও টেকনাফ থানাকে বিশেষ মনিটরিং করা হবে। একইসঙ্গে অবৈধ অস্ত্র তৈরি ও সরবরাহ বন্ধে  মহেশখালীতেও নজরদারি বাড়ানো হবে।
ডিআইজি আরও বলেন,  পুরাতন সব টিমকে বদলি করা হয়েছে। দৃঢ় মনোবল নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরিতে পুলিশের যে ভূমিকা আছে সেটি পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করবে নতুন টিম।
থানায় কোনও দালাল ঘেঁষতে দেওয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নে ডিআইজি সাংবাদিকদের বলেন, থানার কিনারায় কোনও দালাল আসতে সাহস করবে না। দালালরা বিন্দু পরিমাণ ছাড় পাবে না।
যদি কোনও অনৈতিক প্রস্তাব নিয়ে কেউ আসে বা কেউ তদবির করতে আসে তবে তাদের আটক করা হবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,  ভালো কাজ করতে হলে ভালো লোক দরকার। সমাজে যাদের গ্রহণযোগ্যতা নেই, টাউট-বাটপার, চোরাচালানি, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, পুলিশের দালাল, থানায় গিয়ে যারা দালালি করে এমন যারা কমিউনিটি পুলিশে যুক্ত আছে তাদের বিরুদ্ধেও আরও কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কমিউনিটি পুলিশে আগাছা বেশি হলে প্রয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং এর পুরো ইউনিট বাদ দেওয়া হবে।
এ সময় কক্সবাজারের নবাগত পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) শাকিল আহমেদ ও উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমদ মঞ্জুর মোরশেদসহ সকল অফিসার উপস্থিত  ছিলেন।
গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় কমিউনিটি পুলিশের ভুমিকা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠে। ফলে এ ঘটনার পর পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা-প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। জেলা পুলিশকে ঢেলে সাজাতে একযোগে সব সদস্যকে বদলির সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশের সদর দফতর।