শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সময় : রাত ৯:০৪

ধর্মের নামে কোনো বিশৃঙ্খলা করতে দেবো না: প্রধানমন্ত্রী


প্রকাশের সময় :১৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ১২:৩৬ : অপরাহ্ণ

 সিএসপি নিউজ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানাবেন না। ধর্মের নামে কোনো ধরনের বিভেদ-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেবো না। ধর্মীয় মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে এদেশের মানুষ প্রগতি, অগ্রগতি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবেন। একাত্তরের পরাজিত শক্তির একটি অংশ সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করতে মাঠে নেমেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আগামীকাল বুধবার মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, ধর্মান্ধ নয়। ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার করবেন না। প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার রাখেন। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সব ধর্মের-বর্ণের মানুষের রক্তের বিনিময়ে এদেশ স্বাধীন হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বাংলাদেশ লালন শাহ, রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল, জীবনানন্দের বাংলাদেশ। এ বাংলাদেশ শাহজালাল, শাহ পরান, শাহ মখদুম, খানজাহান আলীর বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ শেখ মুজিবের বাংলাদেশ, সাড়ে ষোল কোটি বাঙালির বাংলাদেশ। এ দেশ সবার।

৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, দুঃখের বিষয় ৭৫-পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বিরোধী সরকারগুলো মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত মূল্যবোধগুলোকে জলাঞ্জলি দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় নিজেদের আসন চিরস্থায়ী করার পদক্ষেপ করে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ধারাবাহিক অপপ্রচার চালিয়ে, ইতিহাস বিকৃত করে আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কালিমা লেপনের চেষ্টা করে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিজয় দিবসের প্রাক্কালে তাই আসুন, আবারও আমরা শপথ নেই- আমরা যেন লাখো শহীদের রক্তের ঋণ ভুলে না যাই। আমরা যেন মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ভূলুণ্ঠিত হতে না দেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবশক্তি, তরুণ সমাজ ও নতুন প্রজন্মের কাছে অনুরোধ, তোমরা তোমাদের পূর্বসূরিদের আত্মোৎসর্গের কথা কখনই ভুলে যেও না। তাঁদের উপহার দেওয়া লাল-সবুজ পতাকার অসম্মান হতে দিও না। যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের বিজয়-নিশান সমুন্নত রাখার শপথ নাও এই বিজয় দিবসে। প্রতিজ্ঞা কর, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এদেশকে সোনার বাংলাদেশে পরিণত করবে। তবেই ৩০ লাখ শহীদের আত্মা শান্তি পাবে। জাতির পিতার স্বপ্নপূরণ হবে।

মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই মহান দিনে আমি মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাদানকারী বিভিন্ন দেশ ও দেশের জনগণ, ব্যক্তি এবং সংগঠনের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বীর সদস্য আমাদের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। তাদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি ভারতের তৎকালীন সরকার, রাজনৈতিক নেতা এবং সর্বোপরি সাধারণ জনগণকে- যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং নানাভাবে সহযোগিতা করেছিলেন।

করোনা মহামারির পরিবর্তিত এ পরিস্থিতিতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিজয় দিবস উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, অবহেলায় একজন মানুষেরও মৃত্যু কাম্য নয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এক পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবছর আমাদের বিজয় দিবস উদযাপন করতে হচ্ছে। মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের দৈনন্দিন কার্যপ্রণালীতে পরিবর্তন আনতে হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে, জনসমাগম এড়িয়ে আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় কাজকর্ম সম্পন্ন করতে হচ্ছে।

সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিজয় দিবস উদযাপনসহ যাবতীয় কাজকর্ম সম্পন্ন করার অনুরোধ জানাচ্ছি। আপনারা ঘর থেকে বের হওয়ার সময় অবশ্যই মাস্ক পরবেন এবং মাঝেমধ্যে হাত সাবান অথবা স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করবেন। আপনার সুরক্ষা, সবার জন্য রক্ষাকবচ।