সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সময় : সকাল ১০:৪৪

নগদে ভুল নাম্বারে চট্টগ্রামের টাকা লালমনিরহাটে; উদ্ধার করল টিম ডাবলমুরিং


প্রকাশের সময় :২৫ মার্চ, ২০২১ ৭:৩০ : অপরাহ্ণ

কমল চক্রবর্তীঃ
নগদে বা বিকাশে লেনদেনের ক্ষেত্রে অনেক সময় আমাদের নিজের সামান্য ভুলে টাকা চলে যায় অন্যের হাতে। সেই টাকা সহজে পাওয়া যায় না। কল করলে ফোনই রিসিভ করে না। কম লোকই আছে সেই টাকা ফেরত দেয় বা দিতে রাজি হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টাকা ঢুকার সাথে সাথে মোবাইল বন্ধ করে দেয়। ফলে টাকা উদ্ধার অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এমনি একটা ঘটনার স্বীকার চট্টগ্রামের এক যুবক মোঃ ওবাইদুল্লাহ খান। সে গতকাল বুধবার ২৪ মার্চ সকালে একটা নগদ নাম্বারে ২০,২৪০ টাকা পাঠাতে গিয়ে টাকাটা ভুল নাম্বারে চলে যায় লালমনিরহাটের অন্য আরেকজনের একটি নগদ একাউন্টে।

খুব টেনশনে পড়ে গিয়েছিল মোঃ ওবাইদুল্লাহ খান।  অনেক কস্টের টাকা কিভাবে উদ্ধার করবে? টেনশনে গা হিম হয়ে যাচ্ছিল তার; একটা মাত্র ভুল ডিজিটের কারণে টাকাটা চট্টগ্রাম থেকে লালমনিরহাটে চলে গেল। সে প্রথমে ওই নাম্বারে ফোন দিয়েছিল একবার রিং হওয়ার পর সাথে সাথে মোবাইল অফ করে দিয়েছে। তখন আরো বেশি টেনশনে বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু তার মনের ভিতর একটা আত্নাবিশ্বাস ছিল নিশ্চয় এর সমাধান মিলবে ওসি মহসিনের হাতে। তার মনে প্রাণে বিশ্বাস ছিল ওসি মহসিনের সাথে দেখা করলে কোন একটা সুরহা তো হবে।

সেই আত্মবিশ্বাসের উপর ভর করে আমার খুব উপকার হবে এবং সে ওসি মহসিনের সাথে দেখা করতে চায় এই লিখে তৎক্ষনাৎ সাহায্য চায় Desperately seeking Ctg গ্রুপে। । কিন্তু ওখানে কেউ কেউ ওসি মহসিনের নাম্বার দিয়ে সাহায্য করছে আবার কেউ ইচ্ছামত ট্রল করতেছে। একসময় ওই পোস্টে ডাবলমুরিং থানার সেকেন্ড অফিসার কিশোর মজুমদার কমেন্ট করল আপনি সরাসরি থানায় আসেন। তখন সে হালে পানি পেল।

ইতিমধ্যে সে থানায় আসার আগে নগদ অফিসে গিয়েছিল নগদ থেকেও কোন সমাধান তারা দিতে পারেনাই।  জিপি অফিসে গিয়েছিল নাম্বারটা কোথায় কার নামে ইউজ হচ্ছে, কোন লোকেশন জানার জন্য। কিন্তু বিধিবাম তারা কোন সাহায্য করতে পারেনি। তখন সে এক রকম ভাবে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ল। কিন্তু তার আত্মবিশ্বাসে অটল ছিল।

আর সেই আত্মবিশ্বাসটাকে ঝালাই করতে এইবার সোজা চলে যায় ডাবল মুরিং থানায়। থানায় এসআই কিশোর মজুমদার ও এসআই মুকিম খুবই আন্তরিক ভাবে তার বিষয়টা নিয়ে কাজ করেছে। মনে সাহস যোগিয়েছে। অবশেষে টিম ডবলমুরিংয়ের আন্তরিকতায় উদ্ধার হল সেই অনিশ্চয়তার টাকা। যুবকটি ফিরে পেল তার কষ্টার্জিত টাকা ও ফিরে পেল আত্মবিশ্বাস।

ভিকটিম মোঃ ওবাইদুল্লাহ খান বলেন, একটা নগদ নাম্বারে ২০,২৪০ টাকা পাঠাতে গিয়ে ভুলে টাকা চলে যায় লালমনিরহাট। এই ঘটনায় এসআই কিশোর মজুমদার ও এসআই মুহিম আন্তরিকতার সাখে আমাকে হেল্প করেছে।তা অকল্পনীয় আমি যা আশা করছিলাম তার চাইতে হাজারগুণ বেশি হেল্প পেয়েছি। আমাকে সাহস দিয়েছে নিজের লোকের মত। মুহিম স্যার এই সাহস যোগিয়েছে কিচ্ছু হবে না। ইনশাল্লাহ টাকা উদ্ধার হবেই। এই আশ্বাস ও ভরসায় আমি গতকাল পর্যন্ত বেঁচে ছিলাম। না হয় স্ট্রোক করে মারা যাইতাম। আমি বাড়ি গেছি কিনা ফোনে খবর নিয়েছে। সকালে আবার নিজ থেকে ফোন দিয়েছে। অবশেষে দুপুর ১২ টায় টাকাটা উদ্ধার করে আমার হাতে তুলে দিল। ভালবাসা জানাই পুলিশের প্রতি। ভালবাসা জানাই টিম ডবলমুরিংয়ের প্রতি। সৎ থাকুন। পুলিশে বিশ্বাস রাখুন। আপনার বিশ্বাসে আপনাকে সঠিক জায়গায় পৌছাবেই। মুজিব বর্ষের অঙ্গিকার পুলিশ হবে জনতার। এই স্লোগানে চলুক দেশ। আমার পোষ্ট দেখে অনেকে ট্রল করেছে পুলিশকে নিয়ে। পুলিশ দেখিয়ে দিল সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রল করা আর বাস্তবতা এক না। এইভাবে পুলিশকে নিয়ে ট্রল করতেছে যা খুবই দুঃখ জনক।

এসআই কিশোর মজুমদার জানান,ভিকটিম মোঃ ওবাইদুল্লাহ খান নগদে টাকা পাঠাতে গিয়ে ভুল নাম্বারে টাকা চলে যায় লালমনিরহাট। পরে সে ওসি মহসিন স্যারের নাম্বার চেয়ে সোশাল মিডিয়ায় একটা পোস্ট দেয়, যা আমাদের নজরে আসে। আমরা তাকে থানায় সরাসরি আসতে বলি। এরমধ্যে সে নিজেও চেষ্টা করেছে পরে আমাদের দারস্থ হয়। পরে আমরা টিম ডবলমুরিং ওসি মহসিন স্যারের দিক নির্দেশনায় টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হই এবং ছেলেটির হাতে টাকা তুলে দিই। আমরা সবসময় মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গাটা ধরে রাখতে চাই। টাকা ফিরে পেয়ে যুবকটির মুখে হাসি ফিরেছে। বেড়েছে পুলিশের প্রতি তার আত্মবিশ্বাস।

সিএস পি/কেসিবি/৭ঃ১৬পিএম

ট্যাগ :