মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০ ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, সময় : রাত ৪:২৫

পাপিয়ার সহযোগী স্মৃতি এখন চট্টগ্রাম কারা পরিদর্শক 


প্রকাশের সময় :৭ মার্চ, ২০২০ ৮:০৫ : পূর্বাহ্ণ
পাপিয়ার সাথে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া মোস্তারী মোরশেদ স্মৃতি ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শে ঢাকায় গ্রেফতার হওয়া বহুল আলোচিত নরসিংদী জেলা যুব মহিলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদিকা “শামীমা নুর পাপিয়ার” সহযোগী চট্টগ্রামের মোস্তারী মোরশেদ স্মৃতি চট্টগ্রাম কারাগারের পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে। পাপিয়ার সহযোগীতায় চট্টগ্রাম মহিলা যুব লীগের যুগ্ম সম্পাদিকার পদ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পাপিয়ার গ্রেফতার হওয়ার পর চট্টগ্রামের স্মৃতির সাথে ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাপিয়ার সাথে স্মৃতির একাধিক ছবি ছড়িয়ে পড়ে।

বিষয়টি চট্টগ্রামের গণমাধ্যম কর্মী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নজরে আসলে মোস্তারী মোরশেদ স্মৃতি নিজেকে বাঁচাতে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ম্যানেজ করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানান দলীয় সুত্রে জানা যায়।

চট্টগ্রাম মহানগর যুব মহিলা লীগের কমিটিতে মোস্তারী মোরশেদ স্মৃতির নাম চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগের কোন নেতা প্রস্তাব না করলেও স্মৃতির নামটি যুব মহিলা লীগের কমিটিতে ঢুকে পড়ায় এ নিয়ে শুরু থেকে বির্তক ছিল।

স্মৃতির গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলায় হলেও চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত না থেকেও পাপিয়ার মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগর যুব মহিলা লীগের কমিটিতে পদ পাওয়ার বিষয়টি ১২নং সরাইপাড়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানতে পারলে সে নিজেকে রক্ষা করার জন্য চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী দোহাই দিয়ে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা চালাচ্ছে এলাকা নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমা আকতার মিতা (মিতা খান) সাংবাকিদের বলেন, মোস্তারী মোরশেদ স্মৃতির নামটি কমিটিতে আসার পর আমরা সবাই হতভাগ হয়ে যাই, এ রকম একজন বির্তকিত মহিলা নিয়ে কমিটির সবাই বিব্রত, পাপিয়ার সাথে নিয়মিত সর্ম্পক রয়েছে পাপিয়া গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত বিষয়টি অনেকের জানা ছিল না।

এ বিষয়ে নগর যুব মহিলা লীগের আহবায়ক অধ্যাপিকা সাইরা বানু রৌশনী  সাংবাদিকদের জানান, যুব মহিলালীগকে আমি অনেক কষ্ট ও শ্রম দিয়ে চট্টগ্রামে দাড় করিয়াছি, যে মহিলার নাম চট্টগ্রাম থেকে কোন নেতা প্রস্তাব করেনি, অথচ অনেক নেতা যোগ্য, শিক্ষিত, ভাল পরিবারের একাধিক মেয়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিলো তাদের নাম আসেনি, যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়কের মত পদে স্মৃতির মত একজন বিতর্কিত মেয়ের নাম আসায় পুরো চট্টগ্রামে সাংগঠনিক কর্মকান্ড বির্তকিত হয়ে পড়ছে বলে তিনি দাবি করেন।

পাপিয়ার সাথে সর্ম্পক-জামাত-শিবিরের মতাদর্শের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকা, চট্টগ্রাম কারাগারের পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়ে চাইলে নগর যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহবায়ক মোস্তারী মোরশেদ স্মৃতি বলেন, আমার বাবা একজন ডি জি এফ আই এর কর্মকর্তা ছিলেন, আমি ২০০৮ সাল থেকে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত ছিলাম, বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে আমার বিয়ে হয়েছে। আমার সাথে পাপিয়ার ছবি গুলো ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানের দাবি করেন, সাবেক মহিলা এমপি তুহিনের মাধ্যমে পাপিয়ার সাথে সর্ম্পক স্থাপন হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে গ্রুপিং ষড়যন্ত্র বলে মোস্তারী মোরশেদ স্মৃতি দাবি করেন বলেন এর আগেও একজন সাংবাদিক আমাকে ফোন করে  আমাকে সংবাদ প্রচার করার হুমকি দেওয়ায় আমি আমার পরিচিত উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে রেখেছি। সি এম পির উচ্চ পর্যায়ের ওই পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন। মোস্তারী মোরশেদ স্মৃতির সাথে সি এম পির উচ্চ পর্যায়ের ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম জানতে চাইলে তিনি পুলিশ কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

কোন রাজনৈতিক নেতার সুপারিশ বা ডিও লেটার এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম কারাগারের পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে জানান আমার বিরুদ্ধে যা পারেন তাইলে লিখেন আমি আপনার কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য নয়। তিনি আরো জানান আমার সম্পর্কে জানতে চাইলে মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি  মাহাতাব আঙ্কেল ও মহানগর মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করুন। তিনি তার বিষয়গুলো সংবাদপত্রে প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান। তিনি আরো বলেন আমি একজন চেম্বারে ডাইরেক্টর আমার বিরুদ্ধে কোন সংবাদ প্রচার হলে আমি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির  মামলা করবো।

মোস্তারী মোরশেদ স্মৃতির এ বিষয়ে ১২নং সরাইপাড়া ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওযামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছাবের আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, স্মৃতি নামের মেয়েটা আমরা কেউ আগে থেকে চিনতাম না, এলাকার এক ছেলের সাথে ঐ মেয়ের হওয়ার পর শুনেছি সে নাকি এখন যুব মহিলা লীগের নেত্রী, স্মৃতিকে একদিন নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রয়াত সিটি মেয়র এ.বি এম মহিউদ্দীন চৌধুরীর স্ত্রী হাসনিা মহিউদ্দীনের সাথে দেখে আমি অবাক হই।

১২নং সরাইপাড়া ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ন আহবায়ক ও পাহাড়তলী থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন এম শওকত আলী বলেন আমি ১৯৯১ সাল হইতে ছাত্রলীগের  রাজনীতির সাথে যুক্ত থেকে মুজিব আদর্শকে বুকে লালন করে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে এলাকাবাসীর কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি, কোনদিন কোন পদ পদবীর জন্য নেতাদের দ্বারস্থ হয়নি, আর মোস্তারী মোরশেদ স্মৃতির নাম অতীতে কোনো দিন শুনি নাই। মহানগর মহিলা আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ন সম্পাদিকার পথ কিভাবে পেলেন তা আমার বোধগম্য নয়। তিনি আরো বলেন শুনেছি মোস্তারী মোরশেদ স্মৃতি চট্টগ্রাম কারাগারের পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে। কারা পরিদর্শক হিসেবে তার নিয়োগ পাওয়ার বিষয়ে কে বা কারা সুপারিশ করেছে দলের স্বার্থে তা খতিয়ে দেখা দরকার।
উল্লেখ্য গত ২০১৮ সালের ২৭ জুলাই নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলম চৌধুরীর মেয়ে অধ্যাপিকা সাইরা বানু রৌশনীকে আহবায়ক, নাজমা আক্তার মিতা, জাহানারা ছাবের, মোস্তারী মোর্শেদ স্মৃতি, জুলেখা বেগম পাপ্পীকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ২৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।  তবে কমিটিতে যুব মহিলা লীগ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপিকা অপু উকিল স্বাক্ষরিত হলে সভাপতি নাজমা বেগমের স্বাক্ষর ছিল না। এছাড়াও অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে কমিটিতে রয়েছেন মমতাজ বেগম রোজি, শামীম আরা লিপি, রিতা শেখ, সেলিনা আক্তার আসমানী ঝুমুর, হাফিজা বেগম বেবি, সোনিয়া আজাদ, জিন্নাত সুলতানা ঝুমা, সায়কা দোস্ত, জিন্নাত আরা খানম তারা, ফরিদা ইয়াসমীন,রুবা এহসান, ইসমত আরা চৌধুরী, মিলি আক্তার, মোরশেদা পারভীন মিষ্টি, নায়না আফরীন পুষ্প, নাসরিন আক্তার মোহনা, আঞ্জুমান আরা বেগম, কানিজ ফাতেমা, ইসরাত জাহান, দিলশাত খানম বেবী, আফসানা রহমান ও ফ্লু রাণীকে কমিটিতে রাখা হয়।