সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, সময় : ভোর ৫:১৭

প্রত্যাহারের আশঙ্কায় আগেই ছুটি নিয়েছেন টেকনাফের ওসি প্রদীপ


প্রকাশের সময় :৬ আগস্ট, ২০২০ ১০:৫৮ : অপরাহ্ণ

সিএসপি নিউজ : অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ খান নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রত্যাহার হতে পারেন এমন আশঙ্কায় আগেই ছুটি নিয়েছেন কক্সবাজারের টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস। গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) তিনি নিজেই থানার জিডি বইয়ে অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে নোট লিখে ছুটিতে চলে গেছেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে থানার পরিদর্শক তদন্ত এবিএম দোহাকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অফিসার ইনচার্জ) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে ছুটি নেওয়ার একদিনের মাথায় ওসি প্রদীপ কুমারকে প্রত্যাহার করে জেলার পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বুধবার সন্ধ্যায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘টেকনাফের ওসি মঙ্গলবার অসুস্থতাজনিত কারণে ছুটিতে গেছেন। সঙ্গে সঙ্গেই আরেকজনকে ওসির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওসি প্রদীপ কুমারকে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলছে।’
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স-এর একটি সূত্র জানায়, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা রাশেদ খান নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে পুলিশ সদর দফতর থেকেও যথাযথ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের নির্দেশে এর আগে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ১৬ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়। বুধবার সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ। সেখানে দুই বাহিনীর প্রধান যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে সিনহার নিহত হওয়ার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। এরপরই আইজিপির টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাসকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। ২০১৮ সালে টেকনাফ থানায় যোগ দিয়েছিলেন প্রদীপ কুমার দাস। উপ-পরিদর্শক বা এসআই হিসেবে পুলিশে যোগ দেন ১৯৯৫ সালে।
এদিকে বুধবার দুপুরে ওসি প্রদীপ কুমার দাস ও বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহত সেনা কর্মকর্তার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। আদালত টেকনাফ থানায় মামলাটি রেকর্ড করে র‌্যাবকে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর থেকে গুঞ্জন উঠেছে যে কোনও সময় ওসি প্রদীপ কুমার দাস ও লিয়াকতসহ অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের যে কোনও সময় গ্রেফতার করা হতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট অপর একটি সূত্র জানা গেছে, ওসি ও তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জসহ অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের আপাতত গ্রেফতার করা নাও হতে পারে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, ওই কমিটির তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার (৩১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে প্রধান করে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন ও নিরাপত্তা বিভাগ। একইভাবে তদন্তের স্বার্থে টেকনাফের বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ লিয়াকত আলিসহ ১৬ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।