সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০ ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, সময় : সকাল ৯:৩২

বাকলিয়া ঐ মাছ ব্যবসায়ীকে পরিকল্পিত ভাবে খুন করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডের ৭ আসামি গ্রেফতার


প্রকাশের সময় :১৭ অক্টোবর, ২০২০ ৮:৫০ : অপরাহ্ণ

সিএসপি নিউজ : চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার নতুন ফিশারি ঘাটের ভেড়া মার্কেট এলাকার আবু তৈয়ব (৪৫) হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত। মাছ ব্যবসায়ী তৈয়ব থেকে মাসোহারা না পেয়েই মূলত পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ডের পর সেটাকে গণপিটুনি হিসেবে চালিয়ে দিতে সব কিছুই করেছিল তারা। আগে কয়েকজনে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরিকাঘাত করে। পরে লোকজন জড়ো করে তাকে গণপিটুনির রং দেওয়ার কাজটি করেও শেষ রক্ষা হয়নি ঘাতকদের।

শুক্রবার রাতে হত্যাকাণ্ডের পরপরই ৭ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এরকমই তথ্য পেয়েছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে গ্রেফতার ৭জন হলেন- আকতার হোসেন প্রকাশ কসাই আকতার (৪১), মো. সাইফুদ্দিন (৪০), রায়হান উদ্দিন ওরপে রানা (২৫), আশরাফুল ইসলাম (২৮), মো. সবুজ (৩৫), মো. আবু তাহের ওরপে কালু (২০), ও হাসিনা (২৬)।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বাকলিয়া থানায় তৈয়ব হত্যাকাণ্ডে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং- ৫১। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার শিকলবাহা মাস্টার হাট এলাকার বাসিন্দা আবু তৈয়ব। ফিশারীঘাটের মাঝি হিসেবে কাজ করতেন আর বাকলিয়া থানার নতুন ফিশারী ঘাটস্থ আক্তারের কলোনিতে পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পুলিশ জানায়, নিহত আবু তৈয়ব নতুন ফিশারী ঘাটে শ্রমিক সরবরাহের মাঝি ছিলেন এবং ওই এলাকায় পাশাপাশি একটি চায়ের দোকান চালাতেন। আসামিরা চায়ের দোকান চালানোর জন্য নিহত আবু তৈয়বের (৪৫) কাছে এক হাজার টাকা করে মাসোহারা দাবি করে। দাবি করা টাকা না দিলে তাকে বিভিন্ন সময় দেখে নেওয়ার হুমকি দিত। এই বিষয়ে নিহত আবু তৈয়ব (৪৫) তার কলোনির মালিক আকতার হোসেন প্রকাশ কসাই আকতারের (৪১) কাছে অভিযোগ দেন।
ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুক্রবার সন্ধ্যার পর আকতার হোসন প্রকাশ কসাই আকতার একটি বৈঠক ডাকেন। ওই বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য আকতার হোসেন নিহত আবু তৈয়বকে মোবাইল ফোন করে ফিশারীঘাট আসতে বলেন। আকতার হোসেনের কথায় শিকলবাহা হতে আবু তৈয়ব ফিশারীঘাট এলাকায় যাওয়ার পথে বাকলিয়া থানার নতুন ফিশারীঘাট ওয়ালটন শো-রুমের সামনে পাকা রাস্তার উপর পৌঁছালে আকতার হোসন প্রকাশ কসাই আকতারের নেতৃত্বে ১০/১২ জন মিলে আবু তৈয়বের গতিরোধ করে।
এ সময় কসাই আকতার অন্যদের নির্দেশ দেয় যে, আবু তৈয়বকে মেরে ফেলো।’ তার নেতৃত্বে অন্য আসামিরা আবু তৈয়বকে লোহার রড, পাইপ দিয়ে পিটিয়ে এবং কিরিচ, রামদা, বটি দিয়ে বিভিন্ন অংশে কুপিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করে।
হত্যার পর অভিযুক্তরা হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে গণপিটুনি বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য এলাকায় মিথ্যা রটনা ছড়িয়ে দেয়। প্রথমে ৮-১০ জন, পরে হামলে পড়ে আরও ২০-৩০ জন। ঠিক এভাবেই ঘর মালিক কসাই আক্তারের নেতৃত্বে হামলে পড়া ৪০ জনের ওই দলের উপর্যপুরি আঘাতে নিহত হন ফিশারীঘাটের মাছ ব্যবসায়ী মো. তৈয়ব প্রকাশ তৈয়ব মাঝি। পরে বলা হয়, বাড়ি ভাড়া নিয়ে কথাকাটি করতে গিয়ে বাড়িওয়ালাকে আঘাত করতে গেলে স্থানীয়রা গণপিটুনি দেয়। এতে আবু তৈয়বের মৃত্যু হয়।