শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০ ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, সময় : সকাল ৭:২৪

বাজার অস্থিতিশীল করলে চাল আমদানি করা হবে: খাদ্যমন্ত্রী


প্রকাশের সময় :১ জুলাই, ২০২০ ৫:৩৬ : অপরাহ্ণ

সিএসপি নিউজ : অপচেষ্টার মাধ্যমে চালের মূল্য বৃদ্ধির চেষ্টা হলে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে। প্রয়োজনে সরকারিভাবে চাল আমদানির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

তিনি বলেন, এবার বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এই ভরা মৌসুমে চালের বাজার অস্থিতিশীল হবার কোন কারণ নেই।

বুধবার (০১ জুলাই) সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখার বিষয়ে এক আলোচনা সভায় যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী।

সভা সমন্বয় ও সঞ্চালনা করেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- দেশের ৮ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, ৮ বিভাগের বিভাগীয় চালকল মালিক সমিতির দুই জন করে প্রতিনিধি, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সভায় চালকল মালিকদের উদ্দেশে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, চালের বাজার স্থিতিশীল রাখেন, সরকারের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী সরকারি গুদামে চাল সরবরাহ করেন। যদি তা না করেন তবে সরকার চাল আমদানিতে যেতে বাধ্য হবে। কিন্তু সরকার আমদানিতে যেতে চায় না। গেলে মিলারদের ক্ষতি হবে এবং যে সমস্ত কৃষক ধান ধরে রেখেছে তারাও লোকসান করবে। এই সময়ে যে সমস্ত মিল এগিয়ে আসবে তাদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে চিহ্নিত করার জন্য ইতোমধ্যেই খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেসব মিলকে পরবর্তীতে সেভাবে মূল্যায়ন করা হবে বলে জানান খাদ্যমন্ত্রী।

সাধন চন্দ্র মজুমদার আরও বলেন, এই করোনাকালে সবাই বিপদগ্রস্ত। এবার না হয় লাভ একটু কম করলেন। প্রত্যেক বার লাভ সমান হয় না। এবার মানুষকে সেবা করার সুযোগ রয়েছে। সেবার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসুন। এছাড়া কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী ধান চাল সংগ্রহের সময় কোন কৃষক বা মিলারের সঙ্গে অসদাচারণ করবেন না। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হবেন না।

২০১৭ সালের কথা স্মরণ করিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে মিল মালিকদের একটা আত্মার সম্পর্ক রয়েছে। ২০১৭ সালে হাওড়ে বন্যার সময় সরকারিভাবে চালের সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হলে সরকার চাল আমদানির ওপর ট্যাক্স ফ্রি করে দিয়েছিল। ফলে ৪০ লাখ মেট্রিক টন চাল বিভিন্নভাবে আমদানি করা হয়। সে কারণে সেই বছর মিলমালিকরা এবং কৃষক উভয়েই চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষক বাঁচলে ধান উৎপাদিত হবে এবং আপনারা চালকল মালিকরা বেঁচে থাকবেন। কৃষক যাতে বিপাকে না পড়ে, বিশেষ করে প্রান্তিক কৃষক যেন ধানের ন্যায্য মূল্য পায় সেজন্য এবার ৮ লাখ মেট্রিক টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ইতোমধ্যেই কৃষক তার ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে।

সঠিক সময়ে চাল দেয়ার আহ্বান জানিয়ে সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, আপনারা সাপ্তাহিক, পাক্ষিক একটা সিলিং করে নেন কখন, কী পরিমাণ চাল সরকারি খাদ্য গুদামে সরবরাহ করবেন।

সরকার সকল ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা দিচ্ছে। সেই প্রণোদনার অংশীদারিত্বের সুযোগ আপনারাও নিতে পারবেন বলে উপস্থিত মিল মালিকদের অবহিত করেন খাদ্যমন্ত্রী। কোনভাবে সরকারিভাবে চালের মূল্য বৃদ্ধি করা হবে না বলে জানান তিনি।

সভায় উপস্থিত বরিশাল বিভাগ চালকল মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, গত বোরো মৌসুমের শেষ দিকে কৃষকরা ধান বিক্রি করে মণ প্রতি ভালো লাভ করেছিলেন এবারও বেশিরভাগ কৃষক যে যতটুকু পারেন সেই পরিমাণ ধান নিজেদের কাছে ধরে রেখেছেন। তাদের আশা এবারও শেষ দিকে বেশি দামে ধান বিক্রি করতে পারবেন।