শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২০ ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, সময় : রাত ৩:৪৪

শিরোনাম

“ভাড়াটিয়াদের গলার কাটা” বাসা ও দোকান ভাড়া


প্রকাশের সময় :১৪ এপ্রিল, ২০২০ ৬:২১ : পূর্বাহ্ণ

সুমি চৌধুরী: সারা বিশ্বে প্রলয়ংকারী মহামারী করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় কেড়ে নিল শত হাজারেরও বেশি প্রাণ,বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ভয়াল মহামারী থেকে দেশের মানুষকে রক্ষায়  প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ ছুটি নামক অঘোষিত লকডাউনে বাসা ও দোকান ভাড়া “ভাড়াটিয়াদের গলার কাঁটা”।

করোনাভাইরাস মহামারী সংক্রমণ থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে গত ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার পর পুরো দেশ অঘোষিত লকডাউনে পরিণত হয়েছে, জনসমাগম  ঠেকাতে সকল প্রকার দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করেছে প্রশাসন।

অঘোষিত লকডাউন কারণে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে না পারায় মার্চ এপ্রিল মাসের দোকান ও বাসা ভাড়া সাধারণ মানুষের গলায় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা যায় রাজধানীর ঢাকায় মানবতা ও মানবিকতার কারণে প্রধানমন্ত্রী ডাকে সারা দিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে কোন কোন বাড়ির মালিক বাসা ও দোকান ভাড়া মওকুফ করে দিলেও চট্টগ্রামে এখনো পর্যন্ত কোনো বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়াদের বাসা ভাড়া মওকুফ করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে এগিয়ে আসে নাই।

বর্তমানে  ঢাকা ও চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাসের থাবায় যখন জনজীবন থমকে দাঁড়িয়েছে, এখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ফলে দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। আর এই সময় তাদের জন্য আরো সমস্যা হয়ে উঠেছে পরিবারের খাদ্য সামগ্রীর পাশাপাশি দোকান ও বাসা ভাড়ার টাকা ব্যবস্থা করা।

গতকাল বিভিন্ন চট্টগ্রামের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা লকডাউন করেছে প্রশাসন। ঢাকায় বসবাসকারীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রামের মতো একাধিক এলাকা লকডাউন ঘোষণা করার ঘোষণার খবর পাওয়া যায়।

একইসাথে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছাড়া অন্য সবকিছুর দোকান বন্ধ রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে বাজারের বেশিরভাগ দোকান বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট বাড়ৈপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী বিপ্লব দে বলেন সব কিছু বন্ধ ঘোষণা করার জন্য গত প্রায় ২১দিনে একবারের জন্যও দোকান খুলতে পারিনি। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে অর্ডারকৃত মালামাল মাস শেষে ডেলিভারি  দিয়ে দোকান ও বাসা ভাড়া দেওয়ার কথা থাকলেও দোকান খুলতে না পারায় অর্ডারকৃত মালামাল ডেলিভারি দিতে পারি নাই, বর্তমানে বাসা ভাড়া ও দোকান ভাড়ার জন্য জমিদারের চাপে মানসিক যন্ত্রণায় দিনযাপন করতেছি। একদিকে পরিবারের খাদ্য সংকট অন্যদিকে বাসা ভাড়া উভয় সংকট থেকে আমাদের রক্ষা করার জন্য আমাদের নগর পিতা মেয়র আ জ ম নাছিরের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তিনি আরো বললেন আমাদের মেয়়়রকে ভালোবাসেন নগরবাসী তিনি ঘর ভাড়া মওকুবের ঘোষণা দিলে তাহার ডাকে সাড়া দিয়ে মানবিক সাহায্যের হাত বাড়াতে এগিয়ে আসবেন বাড়ির মালিকরা।

জামাল খানের এক ব্যবসায়ী রতন বাবু প্রতিবেদককে জানান এমন সময় ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ থাকায় বেশ কষ্টের মধ্যে দিয়েই যাচ্ছে দিন। একেতো ব্যবসা নেই, তার উপর বাড়ি ভাড়া আর দোকান ভাড়া মেটানো এখন অনেক কষ্টের হয়ে যায়।তিনি প্রতিবেদককে আরো বলেন হয়তো আপনি পরিচিত বিদায় লজ্জা ত্যাগ করে বলতেছি আমার বাসায় যা আছে তা দিয়ে হয়তো আর দুই তিন দিন ডাল ভাত খেতে পারব, এরপর কার কাছে সাহায্য চাইবো বুঝতে পারছি না।

চেরাগী পাহাড়ের ফুলের দোকানদারা বলেন, আমরা এমনিতেই ছোট ব্যবসায়ী। দিনে আনি দিন খাই। এরপর কয়েক হাজার টাকার ফুল দোকানেই পচে নষ্ট হয়েছে। এমন অবস্থায় থেকে পেট চালানোই দায়। এখন দোকান ও বাসা ভাড়াটা সত্যিই অনেক কষ্টের।

সারা দেশ এখন কার্যত লকডাউনের মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় খেটে খাওয়া থেকে শুরু করে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন। স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। দেশের এ পরিস্থিতিতে এক মাসের বাড়ি ও দোকান ভাড়া মওকুফের প্রজ্ঞাপন জারির জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ভাড়াটিয়া কল্যাণ সমিতির সভাপতি আইনজীবী আবেদ রাজা।

চট্টগ্রাম ভাড়াটিয়া কল্যাণ সমিতির আহবায়ক ও হিন্দু মহাজোটের চট্টগ্রাম আহ্বায়ক অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার নিপেশ রঞ্জন হোড় জানান বর্তমানে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন। স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। নেই কোন আয়-রোজগার। এমন পরিস্থিতিতে ভাড়াটিয়াদের চরম দুর্দশা বিবেচনা করে সহৃদয়শীল ঢাকা-চট্টগ্রাম বাড়ির মালিকরা ভাড়া মওকুফ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করি।

জানা যায় এদিকে এই দূর্দশায় অনেকেই এগিয়ে এসেছেন নিজেদের মতো করে। অনেক দোকান মালিকই ইতোমধ্যে মওকুফ করেছেন দোকানের ভাড়া। এ বিষয়ে রাজধানীর মিরপুর ১১ নম্বর সেক্টর এলাকার তিনটি দোকানের মালিক সাজ্জাদ হোসেন মওকুফ করেছেন তার ভাড়াটিয়াদের দোকানের মার্চ মাসের ভাড়া। তিনি বলেন, করোনার কারণে ওরা দোকান খুলতে পারেনি, ব্যবসা করতে পারেনি। সে জন্য আমিও তাদের মার্চ মাসের ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছি। পরে করোনা পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। এখন সকলেরই ভাড়াটিয়াদের পাশে এগিয়ে আসা উচিত।

চট্টগ্রাম ভাড়াটিয়া কল্যাণ সমিতির আহবায়ক ও হিন্দু মহাজোটের চট্টগ্রাম আহ্বায়ক অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার নিপেশ রঞ্জন হোড় জানান চট্টগ্রাম নগরীর ভাড়াটিয়াদের দুই মাসের বাসা ভাড়া মওকুফের বিষয়টা সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন ঘোষণা দিলেই নগরীর সকল বাড়ির মালিকরা এগিয়ে আসবেন।