সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১, ৬ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সময় : রাত ৮:৪৬

শিরোনাম

বৃহস্পতিবার থেকে শিব চতুর্দশীর মেলা তিন দিন সীতাকুণ্ডে


প্রকাশের সময় :১০ মার্চ, ২০২১ ৩:২৮ : অপরাহ্ণ

সিএসপি নিউজ : সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শিব চতুর্দশী তিথিতে পূজা উপলক্ষে শুরু হচ্ছে মেলা।

আগামীকাল থেকে তিনদিনব্যাপী এ মেলা স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পলাশ চৌধুরী।
তিনি জানান, প্রায় ৩০০ বছর পূর্ব থেকে সীতাকুণ্ডে শিব চতুর্দশী মেলার প্রচলন শুরু হয়। এই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
ফাল্গুনী চতুর্দশী তিথিকে ঘিরে আয়োজিত মেলায় প্রতি বছর দেশ-বিদেশের লাখ লাখ তীর্থযাত্রীর আগমন ঘটে। মেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কাজ করছেন প্রশাসন ও মেলা কমিটির সদস্যরা।
করোনা মহামারির কারণে এবার মেলায় তীর্থযাত্রীর আগমন কম হতে পারে। তারপরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মেলা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
মেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪০০ সদস্য ও ৩০০ স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। মেলার দেড় কিলোমিটার এলাকা সিসি ক্যামেরা দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে সীতাকুণ্ড রেলস্টেশনে ৫টি আন্তঃনগর ও ১টি মেইল ট্রেন তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে যাত্রাবিরতি দিচ্ছে।
সীতাকুণ্ডের সংযুক্ত দুই পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত বিরুপাক্ষ ও চন্দ্রনাথ মন্দির। চন্দ্রনাথ মন্দির ১২০০ ফুট উঁচুতে দাঁড়িয়ে আছে। ফাল্গুন মাসে শিবচতুর্দশী বা শিবরাত্রি উপলক্ষে করে প্রতিবছরই এখানে আসেন দেশ-বিদেশের পুণ্যার্থীরা।
সীতাকুণ্ড বাজার থেকে পাহাড় পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার পথে বসে মেলা।  প্রথমে পড়বে শংকর মঠ। এর সামনেই ব্যাস কুণ্ড। এখানে এখন দিনভর চলে পুণ্যস্নান ও তর্পন। এটি পার হয়ে পাহাড়ের দিকে উঠতেই রামসীতার মন্দির। সেখানে আছে সীতাকুণ্ড। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, ভ্রাতৃবধূ সীতাকে রেখে লক্ষ্মণ যে কুণ্ড তৈরি করেছিলেন, এটি সেই কুণ্ড। রামায়ণে বর্ণিত রাম-সীতা ও লক্ষণের ১৪ বছর বনবাস হয়েছিল এখানেই। এছাড়া এখানে আছে শ্মশান, গিরিশ ধর্মশালা, ননী গোপাল তীর্থ মন্দির, ভৈরব ধর্মশালা সহ অনেক মঠ-মন্দির।
সতীর একান্ন পীঠের একটি পিঠও এখানে। পাহাড়ে উঠে প্রথম বিরুপাক্ষ মন্দির। এরপর পূর্বদিকে আঁকাবাঁকা পথ ধরে পাহাড়ের চূড়ায় চন্দ্রনাথ মন্দির। উপবাস থেকে মন্দিরগুলোতে দুধ ও ডাবের জল দিয়ে শিবকে স্নান করাতে আসেন ভক্তরা।