বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ০৮:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
চট্টগ্রাম কলেজে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ৭ জন আহত ছিনতাইসহ ৫ মামলার আসামি আটক বায়েজিদ থেকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে বাড়ি থেকে নিয়ে এসে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ লোহাগাড়ায় দুর্যোগ বিষয়ক মহড়া অনুষ্ঠিত দুর্নীতি করে যারা দেশ-বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন তারা কেউই পার পাবে না ওবায়দুল কাদের সুন্দরবনে আয়তন বাড়াতে কৃত্রিম ম্যানগ্রোভ সৃষ্টির উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর মা-মেয়ে নিখোঁজের ২২দিন, স্বামী আতাউল্লাহ’র সন্দেহের তীর পরকীয়াই পলায়ন পাকস্থলী করে ইয়াবা পাচার করতে গিয়ে ও শেষ রক্ষা হল না আধুনিক জগতের সঙ্গে তালমিলিয়ে আমাদের এসএসএফ প্রশিক্ষণ ও দক্ষ বৃদ্ধি হবে প্রধানমন্ত্রী দুধের ব্যবসার আড়ালে করতেন ইয়াবা ব্যবসা দুধ জসিম

বয়সের ভারে ন্যুজ কালুরঘাট সেতু! জোড়া তালির মাঝে ৯১ বছর পার!

কমল চক্রবর্তীঃ
কর্ণফুলী নদীর উপর প্রতিষ্ঠিত কালুরঘাট সেতু । ১৯৩০ সালে ব্রুনিক এন্ড কোম্পানী সেতু বিল্ডার্স হাওড়া নামক একটি সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সেতুটি নির্মাণ করেন। ২৩৯ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি কালুরঘাটের পোল নামে বহুল পরিচিত। গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু এখন বয়সের ভারে ন্যুজ। জোড়াতালি দিয়ে কোনোরকমে টিকে আছে। জোড়াতালির প্যান্টের মত এদিক টানলে যেন ওদিক ছিঁড়ে। জোড়া তালির মাঝে পার করেছে ৯১ বছর! তার পরও যানবাহন চলাচল করছে সমানে, বরং আগের তুলনায় বেড়েছে কয়েক গুণ। ফলে দিনে দিনে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে সেতুটি। ২০০১ সালে রেলওয়ে সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেছে। ২০০১ থেকে ২০২১ এই বিশ বছর ঝুঁকি নিয়ে চলছে যান চলাচল। সেতুটি ইতোমধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে মরণদশায় পরিণত হয়েছে। কালুরঘাট সেতু এখন বোয়ালখালী ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের উন্নয়ন বঞ্চনা ও নাগরিক দুর্ভোগ এর আরেক নাম বলা চলে। সাধারণ মানুষের আজ ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি দশা।

প্রতিদিনই সেতুর দুই পাশে শত শত যানবাহনের জট থাকে। যতই দিন যাচ্ছে সেতুর ওপর চাপ বাড়ছে। জরুরি প্রয়োজনে এই সেতু পারাপারে দুপারের মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। এই সেতু দিয়ে বোয়ালখালী, পটিয়ার একাংশ ছাড়াও দক্ষিণ চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজারের যানবাহনও চলাচল করে। এছাড়া চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, পূর্ব পটিয়া,দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া, শহরের চান্দগাঁও  ও মোহরা  এলাকার  প্রায় ২০  লাখ মানুষ এ সেতুর ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে কালুরঘাট সেতুর জায়গায় নতুন করে একটি দ্বিমুখী সড়ক ও রেলসেতু নির্মাণের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেনস্থানীয়রা । এ নিয়ে বোয়ালখালীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে । ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন সেতুর বিষয়ে সুরাহা না হলে সংসদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণাও দিয়েছিলেন প্রয়াত সংসদ সদস্য মইন উদ্দীন খান বাদল।

অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে কালুরঘাট সেতুর উচ্চতা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা কাটল। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) দাবি অনুযায়ী ১২ দশমিক ২ মিটার উচ্চতায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রেলওয়ের পরিচালক (প্রকিউরমেন্ট) মো. গোলাম মোস্তফা।

গোলাম মোস্তফা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তে ১২ দশমিক ২ মিটার উচ্চতায় কালুর ঘাট নির্মাণ হবে। যদিও আমরা ৭ দশমিক ২ মিটার উচ্চতায় করতে চেয়েছিলাম। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাই আমরা ১২ দশমিক ২ মিটার উচ্চতায় সেতুটি তৈরি করব।

এক্ষেত্রে তিন গুণ ব্যয় বাড়বে বলে জানান গোলাম মোস্তফা। বলেন, ৭ দশমিক ২ মিটার উচ্চতায় সেতুটি নির্মাণ করতে খরচ ধরা হয়েছিল দুই হাজার কোটি টাকা। ১২ দশমিক ২ মিটার উচ্চতায় করতে গেলে তিন গুণ ব্যয় বাড়বে। এক্ষেত্রে সেতুর মোট ব্যয় দাঁড়াবে ছয় হাজার কোটি টাকায়।’

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর নতুন করে দাতা সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করতে হবে। এছাড়া নতুন নকশা প্রণয়ন ও ভূমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য বিষয় নতুন করে করতে হবে।

রেলওয়ের এই কর্মকর্তা জানান, বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে রেল লাইন অ্যালাইনমেন্টে উচ্চতা সর্বোচ্চ ৯ মিটার পর্যন্ত করা যাবে। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, দুঃসময়ে জাহাজ পারাপারে সেতুটি যাতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি না করে সেজন্য সেতুর উচ্চতা বাড়াতে হবে।

 

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ১৯৩০ সালে নির্মিত সেতুটিতে রেলের পাশাপাশি যানবাহন চলাচল করছে ১৯৫৮ সাল থেকে। এই এক সেতু দিয়ে যান চলাচল, পায়ে হেঁটে পারাপার এবং রেল চলাচল করে থাকে। একমুখী চলাচলের কারণে দুই পাশে যানজট হওয়ার পাশাপাশি সেতুর ওপর চাপও বেড়েছে। যার জন্য বারবার মেরামত করে সেতুটি সচল রাখার ব্যবস্থা করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

 

সর্বশেষ ২০২০ সালের জুনে সেতুটি মেরামত করা হয়। এর আগে ২০১২ সালেও এটি মেরামত করা হয়েছিল। এ ছাড়াও প্রতিনিয়ত ছোটখাটো মেরামতকাজ করা লাগে বয়সের ভারে ন্যুজ এই সেতুর। সেতুর ওপরের কার্পেটিং স্থানে স্থানে উঁচুনিচু হয়ে গেছে। নিয়মিত এগুলো মেরামতও চলছে। এ ছাড়া কয়েকটি স্থানে লোহার পাতে মরিচা ধরেছে। দুই পাশে তীব্র যানজট আর ভোগান্তি তো লেগেই রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর ওপরের কার্পেটিং বিভিন্ন জায়গায় উঁচুনিচু হয়ে গেছে। নিয়মিত এগুলো মেরামতও চলছে। তাতে কি ঠোঁটে লিপিস্টিক লাগার মতই স্থায়ী হয় পলেপ লাগানো। এ ছাড়া কয়েকটি স্থানে লোহার পাতে মরিচা ধরেছে। মোট কথা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। লোহায় দেখা মিলে জোড়াতালির ঝালাইয়ের ক্ষত চিহ্ন। কোথাও কোথাও বাঁধা আছে বাঁশ। এ যেন ফোঁড়ার উপর চুনের পলেপ! যান চলাচলের সময় ব্রিজের কাঁপুনি দেখলে মনে হবে এখন ভেঙ্গে পড়বে। দুই পাশে তীব্র যানজট তো লেগেই রয়েছে।

একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানান গেছে, চলতি বছরের আগামী জুন মাসে কালুরঘাট সেতুর নতুন নকশা প্রয়নন শেষ হবে এবং আগামী বছর ২০২২ সালের জুন মাসে সরকারি গেজেট প্রকাশ হবে।তারপর অনুমোদন মিললে পরের বছর কালুরঘাট নতুন সেতুর কাজ শুরু হতে পারে।

এখন দেখার পালা কবে শুরু হবে কাঙ্ক্ষিত কালুরঘাট সেতুর নির্মাণ কাজ। করে ঘুচবে বোয়ালখালী বাসী তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের ভোগান্তি ও দুর্ভোগ । নাকি আটকে থাকবে নতুন কোন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায়? না একেবারে ভেঙ্গে না পড়া পর্যন্ত ফাইল চলাচালিতে পার হবে আরো কয়েক বছর?

সিএস পি/কেসিবি/৮ঃ১৫পিএম


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুক পেইজ