সোমবার, ৫ এপ্রিল ২০২১, ২২শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, সময় : রাত ১২:৫৬

ভাই-ভাবীর নির্যাতনের শিকার প্রবাসী ছোট ভাইয়ের পরিবার


প্রকাশের সময় :২৬ মার্চ, ২০২১ ৩:২৪ : পূর্বাহ্ণ
আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ “অ’বাজি তোরা ইক্কে কিয়াই ন’জাইছ, ইতে আর ইতের বউ মিলিয়েরে আরারে মারি ফেলাইবু। অবুক আই ইবে কি পোয়া জনম দিই”এইভাবে বিলাপ ধরে কান্নার রুল করে যাচ্ছে আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর গ্রামের বাসিন্দা আবু তাহের ও মোহাম্মদ ফারুকের মা রোকেয়া খাতুন।
তাহের ও ফারুক সম্পর্কে আপন দুই সহোদর ভাই। তবে বড় ভাই আবু তাহের  বিয়ে করার পর আর ভাই রইল না। বাঘ আর মহিষের যুদ্ধ চলছে আপন দুই ভাইয়ের মাঝে।
আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর গ্রামের বাসিন্দা আজিজুর রহমানের ছেলে তারা। আপন এই দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলছে পারিবারিক দ্বন্ধ।
স্থানীয়রা জানায়,পারিবারিক বিভিন্ন কারণে দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্ধ লেগেই আছে। আর এই দ্বন্ধের মূলে রয়েছে বড় ভাই আবু তাহেরের বউ মর্জিয়া বেগম ও  চাচাতো ভাই সম্পর্কিত হোসেন নামের পাশ্ববর্তী এক ব্যক্তি ।বড় ভাই বিয়ে করে বউ ছেলে নিয়ে রয়েছে পুরাতন বাড়ী। অপর দিকে ফারুক বৃদ্ধ মা-বাবা,বোনদের নিয়ে থাকছে নতুন বাড়ীতে।
তবুও নানা অজুহাতে যে কোন সময় ফারুকের পরিবারের উপর চড়াও হতে দেখা যায় বড় ভাই আবু তাহের ও তার স্ত্রী মর্জিয়া বেগমকে।
জানা যায়, চাচাতো ভাই হোসেনের সাথে রয়েছে ফারুকদের পুরানো বসত ভিটার সীমানা নিয়ে বিরোধ।ফারুকদের জায়গা জবর দখল করে ঘর নির্মাণ করতে চাই হোসেন। আর ফারুকের পরিবারের পক্ষ থেকে বাধা প্রদান করতে গেলে হামলা মামলার শিকার হতে হয়।এই নিয়ে বেশ কয়েকবার শালিসী বৈটকও বসে। কিন্তু এতে যেন কোনো সুরাহা পাওয়া যাওনি।
এদিকে হোসেনের সাথে তাল মিলিয়ে ফারুকের ভাই আবু তাহের ও তার স্ত্রী মর্জিয়া তার শ্বশুর গোষ্ঠীর উপর চড়াও হয়। তাদের উপর আঘাত করে নির্মমভাবে। এরই রেশ ধরে গত ১৭ মার্চ তাদের  ছোট বোন শাহিদা আক্তারকে বেধড়ক পেটাই তাহের ও তার বউ মর্জিয়া। মুমূর্ষ  অবস্থায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করায়। এসময় তার মাথায় চৌদ্দ সেলাই হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতে আবারও আপন পিতাকে পেটাই তাহের ও তার বউ। যা দেখে এলাকাবাসীরা হতবম্ভ হয়ে যায়।
এই নিয়ে গত ২১ মার্চ ফারুকের বৃদ্ধা পিতা আজিজুর রহমান বাদী হয়ে ছেলে তাহের ও তার বউ মর্জিয়াকে আসামী করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ৪৪৮,৩২৩,৩২৬,৩২৭,৪২৭,৫০৬ ধারায় একটি একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বল্লে তারা জানায়, আবু তাহেরের স্ত্রী একজন বাজে প্রকৃতির মেয়ে। বাড়ীর অধিকাংশ মানুষের সাথে তার প্রতিনিয়ত ঝগড়া হয়। এছাড়াও টাকার বিনিময়ে সে পর পুরুষের সাখে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাইলধর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইলিয়াছ খোকন বলেন বিষয়টি চেয়ারম্যান মহোদয়ের নিকট শালিসি বৈঠক করার কথা ছিলো । ঝামেলার সমাধানের জন্য পরবর্তীতে আবার বৈঠক বসার কথা থাকলেও বাদী বিবাদী কেউ আমার সাথে যোগাযোগ করেনি । তাই বিষয়টি আর মীমাংসা করতে পারি নাই।
বর্তমানে নির্যাতন আর মারধরের ভয়ে নতুন বাড়িতে আতঙ্কে দিন কাটছে ছোট ভাই প্রবাসী ফারুকের পরিবারে। স্থানীয়দের কাছে একাধিকবার সালিশি বৈঠক দিলেও পায়নি কোন সুরহা।
এই নিয়ে প্রবাসী ফারুক মুঠোফোনে জানায়, আমার মা ১৫ বছর ধরে জটিল রোগে অসুস্থ । আমার বৃদ্ধ বাবা চক্কু অন্ধ। ৫ টি বোন  নিয়ে অনেক কষ্ট আছি।   ২৬ বছর ধরে  আমার বড় ভাই বিয়ে করার পর থেকে  আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখে না। উল্টো আমি প্রবাসে থাকায় আমার বৃদ্ধ মা-বাবা, বোন ও আমার পরিবারের উপর নির্যাতন করে।আমার বাবা ও বোনকে পুরাতন ঘরে গেলে  নির্মমভাবে আঘাত করে।  এখন তুমকি দিচ্ছে আমার পরিবারের কাউকে না কাউকে মেরে নাকি সে শান্ত হবে ।
আমি জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিচার চাই, প্রশাসনের কাছে আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই।