শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২০ ১৭ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, সময় : রাত ৪:৪৯

শিরোনাম

রকি বড়ুয়ার নির্দেশেই চরম্বা বৌদ্ধ বিহার ভাংচুর,পুরো ঘটনায় অংশ নেয় ১৫-২০ জন


প্রকাশের সময় :১৬ মে, ২০২০ ১১:২৫ : অপরাহ্ণ

লোহাগাড়া প্রতিনিধিঃ

করোনার লকডাউনেও সাঈদীপুত্রের সাথে গোপন বৈঠক করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা রকি বড়ুয়ার বিশ্বস্থ সহযোগী কামাল উদ্দিন চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কায়সারের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা বিবিরবিলা এলাকার বিবিবিলা শান্তি বৌদ্ধ বিহার ভাংচুর করা হয় রকি বড়ুয়ার নির্দেশেই। আর ভাংচুরের পরিকল্পনা হয় সেই রকি বড়ুয়ার বাড়িতেই। এ বিহার ভাংচুরের পুরো ঘটনার সঙ্গে রকি বড়ুয়ার ১৫-২০ জন সহযোগী জড়িত থাকলেও বৌদ্ধ বিহার ভাঙচুর কাজে মুলত ৩ জনই অংশ নেন। অন্যরা ভাংচুর কাজের সহযোগী ও পাহারাদারের কাজের দায়িত্ব পালন করেন।
পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধকে ধর্মীয় সংঘাতে রূপ দিয়ে ফায়দা লুটতে পরিকল্পনা করেন রকি বড়ুয়া। ঘটনার আগে ৩ মে দিবাগত রাতে তার বাড়িতেই বিহার ভাংচুরের পরিকল্পনা এবং এতে কারা অংশ নেবেন তা নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকের পরিকল্পনা অনুযায়ী ভোর ৩টা থেকে ৪টার মধ্যেই বৌদ্ধ বিহার ভাঙচুর চালানো হয়।
এছাড়াও ৪ মে বৌদ্ধ বিহারে হামলার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক সংঘাতে রূপ দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুসারীদের দিয়ে ব্যাপকভাবে গুজব ছড়াতে থাকেন রকি বড়ুয়া।

বৌদ্ধ বিহারে ভাঙচুরের ঘটনায় রকি বড়ুয়ার বাবা জয়সেন বড়ুয়ার দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হওয়া কামাল উদ্দীন নামে এক আসামির আদালতে দেয়া শনিবার (১৬ মে) জবানবন্দিতে উঠে এসেছে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য।
এর আগে শুক্রবার (১৫ মে) রাতে লোহাগাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে আসামী কামাল উদ্দীনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া কামাল উদ্দিন উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের মধ্যম রাজঘাটা এলাকার জাফর আলমের ছেলে।

আদালত সূত্র জানায়, স্বীকারোক্তিতে কামাল উদ্দীন উল্লেখ করেন- তিনিসহ মোট ৩ জন বৌদ্ধ বিহারে সরাসরি ভাংচুরে অংশ নেন। এ ভাংচুর কর্মকান্ডের পাহারায় রকি বড়ুয়ার নির্দেশে আরও ১৫-২০ জন বিভিন্ন পয়েন্টে পাহারা দেন। হামলার আগেও প্রায় দুই ঘণ্টা রকি বড়ুয়ার বাড়িতে সবাইকে নিয়ে বৈঠক হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও লোহাগাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, বৌদ্ধ মন্দিরে হামলার ঘটনায় জয়সেন বড়ুয়া বাদি হয়ে মৌলভী হেলাল উদ্দিন ও জামাল উদ্দিনসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছিলেন। শুক্রবার রাতে আমরা হামলার সঙ্গে জড়িত কামাল উদ্দীন নামে একজনকে গ্রেফতার করি। শনিবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারামতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন কামাল উদ্দীন।

তদন্ত কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম আরো বলেন, কামাল উদ্দীন হামলায় জড়িতদের নাম জানিয়েছে। আমরা তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। অস্ত্র-মাদকসহ র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা রকি বড়ুয়াকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

গত ৪ মে ভোরে লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা বিবিরবিলা এলাকায় বৌদ্ধ বিহারে ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরা। হামলার ঘটনায় জয়সেন বড়ুয়া বাদি হয়ে লোহাগাড়া থানায় মামলা করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল রকি বড়ুয়া তার বাহিনী দিয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।
লোহাগাড়া থানার ওসি জাকের হোসাইন মাহমুদ বলেন, আদালতে আসামী কামাল উদ্দিনের দেয়া জবানবন্দীর মাধ্যমে বৌদ্ধ বিহার ভাংচুরের বিষয়টি পরিস্কার হয়ে গেছে। আসলে অপরাধ করে খুব বেশীদিন টিকে থাকা যায় না। এ ঘটনায় জড়িত কেউ রেহাই পাবে না। পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।