বুধবার, ৮ জুলাই ২০২০ ২৪শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, সময় : রাত ১:৪০

লকডাউনেও থেমে নেই ; ভুয়া জন্ম সনদ ও জাল সার্টিফিকেট তৈরির রমরমা বাণিজ্য! ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা


প্রকাশের সময় :৩০ জুন, ২০২০ ১২:৪৭ : অপরাহ্ণ

নূর মোহাম্মদ শাওনঃ

চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড পতেঙ্গা থানাধীন অনেক এলাকায় কম্পিউটার কম্পোজের দোকানের আড়ালে চলছে ভূয়া জন্ম সনদ ও জাল সার্টিফিকেট তৈরির কাজ।
ইপিজেড ,বন্দরটিলা , পতেঙ্গা এলাকায় অসংখ্য অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের অসাধু ব্যবসায়ী কম্পিউটার কম্পোজের আড়ালে প্রশাসনের চোখে ফাঁকি দিয়ে ভুয়া জন্ম সনদ ও জাল সার্টিফিকেট তৈরিসহ জাল স্টাম্প বিক্রির ফলে সরকার হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব ।

ইতিমধ্যে নগরীর বন্দরটিলাস্থ স্মার্ট কম্পিউটার এর প্রোপাইটার মোহাম্মদ শহীদ কে ভূয়া জন্ম সনদ ও জাল সার্টিফিকেট তৈরির অভিযোগে আটক করে পুলিশ।এছাড়াও এসব এলাকার অধিকাংশ কম্পিউটার কম্পোজ দোকানে চলছে অবৈধ এ বাণিজ্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, তিনি বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, সেখানে জমাকৃত জন্ম সনদটি তিনি ৫০০ টাকার বিনিময়ে একটি কম্পোজের দোকান থেকে বানিয়েছেন।অভিযোগের সূত্র ধরে, এমনই এক দোকানের নাম আসে প্রতিবেদকের কাছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বন্দরটিলার এ্যাড-কিং নামক কম্পিউটার কম্পোজ দোকানের আড়ালে চলছে ভুয়া জন্ম সনদ ও জাল সার্টিফিকেট তৈরীর অবৈধ বাণিজ্য। অত্র এলাকায় অসংখ্য গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি থাকায় সে সকল ফ্যাক্টরিতে কাজ করতে আসা শ্রমিকদের ভুয়া জন্ম সনদ ও জাল সার্টিফিকেট তৈরির কাজ করছে এ্যাড-কিং এর প্রোপাইটার কাজল বড়ুয়া। তার দোকানটি মূলত কম্পিউটার কম্পোজ, স্টাম্প, ডিজিটাল ব্যানার, সাইনবোর্ড ,ভিজিটিং কার্ড তৈরির দোকান হলেও এখানে নির্দিষ্ট অংকের অর্থের বিনিময়ে পাওয়া যায় নকল জন্ম সনদ ও সার্টিফিকেট । তার সংগ্রহে আরো রয়েছে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তার নকল সীল।

ক্রেতা সেজে কথা হলো এ্যাড-কিং দোকানের প্রোপাইটার কাজল বড়ুয়ার সাথে, প্রথমে সরাসরি স্বীকার করতে না চাইলেও পরে একে একে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য । তিনি জানান, তার তৈরিকৃত নকল জন্মসনদ চট্টগ্রাম ইপিজেড এর ইয়ংওয়ান ব্যতীত যেকোনো ফ্যাক্টরিতে ব্যবহার করা যাবে। এর আগে তিনি এমন অনেক বানিয়েছেন। তার তৈরীকৃত জন্ম সনদ অনলাইনে না থাকলেও তাতে অরিজিনাল সীল ও স্বাক্ষর থাকবে। যা দেখে বুঝা যাবে না এটি নকল। তাছাড়া তিনি এসএসসি , জেএসসি পরীক্ষার সার্টিফিকেট এর নকল দিতে না পারলেও , জেএসসি শুরু হওয়ার পূর্বের ৮ম শ্রেনি পাশের স্কুল সার্টিফিকেট নকল তৈরি করে দিতে পারবেন। যদিও এর জন্য দাবি করেন নির্দিষ্ট মোটা অঙ্কের টাকা। তার এরকম কথা-বার্তার একটি ভিডিও ফুটেজ রয়েছে আমাদের হাতে।

 

এ বিষয়ে এ্যাড-কিং এর প্রোপাইটার কাজল বড়ুয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিনকে জানান, তিনি বা তার প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কোন কাজে জড়িত নন।যে বা যারা আমাদের নিকট এ ধরনের তথ্য দিয়েছে তাকে উনার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য। চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদকের নিকট তার বিরুদ্ধে প্রমাণ আছে বলার পর তিনি বলেন, তিনি কম্পিউটার কম্পোজের কাজ করলেও তিনি ভালো করে টাইপিং এর কাজ জানেন না। তিনি টাইপিং না জেনে কিভাবে সিল তৈরি করেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আস্তে আস্তে এই কাজ করেন। তিনি বারবার চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন নিকট তথ্যদাতার পরিচয় জানতে চান। পরে তিনি আরো জানান, তার দোকানে অনেকে জন্ম সনদ এ নাম বা জন্মতারিখ এর উপর কাগজ বসিয়ে ডাইভার্ট করে ফটোকপি করতে আসে তিনি শুধুমাত্র এই ধরনের কাজই করেন।

এ ব্যাপারে র্যাব-০৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো: মশিউর রহমান জুয়েল এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিনকে বলেন, ভূয়া জন্ম সনদ তৈরি করা যেহেতু, আইন বহির্ভূত কাজ তাই, এ ব্যাপারে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।