শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সময় : রাত ৮:৩১

লোহাগাড়া -চন্দনাইশে ৬ অবৈধ ইটভাটা ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন


প্রকাশের সময় :৯ মার্চ, ২০২১ ৫:৫৩ : অপরাহ্ণ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম জুড়ে চলা অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ কার্যক্রম এর ধারাবাহিকতায় আজকে লোহাগাড়া ও চন্দনাইশ উপজেলায় সরকারি নির্দেশনা না মেনে অবৈধভাবে গড়ে উঠা ৬টি ইটভাটায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় ইটভাটাগুলো ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া হাটহাজারীর ৭ ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

আজ মঙ্গলবার ৯ মার্চ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে লোহাগাড়া উপজেলায় নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গালীব চৌধুরী ও চন্দনাইশ উপজেলায় নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল আলম । এসময় চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর, বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুল্লাহ নুরী এবং চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মফিদুল আলম, সহকারী পরিচালক নাজনীন সুলতানা নীপা ও পরিদর্শক নুর হাসান সজীব উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া র্যাব, পুলিশ,ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অভিযানে সহায়তা করেন।

উচ্ছেদকৃত ইটভাটাগুলো হল লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া, নাওঘাটা এলাকার মেসার্স মজিদিয়া রশিদিয়া ব্রিকস ম্যানুঃ, মেসার্স শাহ জব্বারিয়া ব্রিকস ম্যানুঃ, মেসার্স পদুয়া ব্রিকস, পদুয়া তেয়ারীহাট এলাকার মেসার্স এ এইচ ব্রিকস, ফোর স্টার ব্রিকস এবং চন্দনাইশ, দক্ষিন কাঞ্চননগর এলাকার মেসার্স আয়াজ ব্রিকস ম্যানুঃ ও মেসার্স দুবাই ব্রিকস । এছাড়া হাটহাজারী উপজেলার মেসার্স সোনালী ব্রিকস ফিল্ড, মেসার্স শাহজালাল ব্রিকস ফিল্ড ও মেসার্স কাদেরিয়া ব্রিকস,মেসার্স শাহ আমানত ব্রিকস ম্যানুঃ, মেসার্স এস আলম ব্রিকস, জিলানী (রাঃ) ব্রিক ফিল্ড ও ন্যাশনাল ব্রিক ফিল্ডসহ ৭ ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গালীব চৌধুরী জানান, লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে উচ্ছেদকৃত ইটভাটাগুলোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রদত্ত লাইসেন্স নেই। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে কোন ছাড়পত্র নেই। এছাড়া বন বিভাগের ছাড়পত্র ও বিএসটিআইয়ের মানপত্র কিছুই ছিল না। এসব ইটভাটায় কৃষি জমি ও পাহাড় থেকে মাটি নিয়ে ইট উৎপাদিত হয়ে আসছিল। যেগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। আজকের অভিযানে ৪ টি ইটভাটা ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।পর্যায়ক্রমে সবগুলো ইটভাটা উচ্ছেদ করা হবে।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল আলম জানান, চন্দনাইশ উপজেলায় উচ্ছেদকৃত ইটভাটাগুলো জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কোন লাইসেন্স নেই। পরিবেশগত কোন ছাড়পত্র নেই। এসব ইটভাটাগুলো কৃষি জমি ও পাহাড় থেকে মাটি নিয়ে ইট উৎপাদিত হয়ে আসছিল। যা পরিবেশের জন্য হুমকি স্বরুপ। এসব অভিযোগে ইটভাটাগুলো ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর, বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুল্লাহ নুরী জানান, অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ এর ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসাবে আজকে লোহাগাড়া ও চন্দনাইশে ৬টি অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ করা হয়েছে। হাটহাজারী উপজেলার মেসার্স সোনালী ব্রিকস ফিল্ড, মেসার্স শাহজালাল ব্রিকস ফিল্ড ও মেসার্স কাদেরিয়া ব্রিকস,মেসার্স শাহ আমানত ব্রিকস ম্যানুঃ, মেসার্স এস আলম ব্রিকস, জিলানী (রাঃ) ব্রিক ফিল্ড ও ন্যাশনাল ব্রিক ফিল্ডসহ ৭ ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সিএসপি /কেসিবি /৫ঃ৪৪পিএম

ট্যাগ :