সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, সময় : বিকাল ৫:১৫

শীতের কারনে প্রতিদিনই বাড়ছে শিশুদের নানা রোগ


প্রকাশের সময় :২০ ডিসেম্বর, ২০২০ ৫:১১ : অপরাহ্ণ

সিএসপি নিউজ  : নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগ নিয়ে নগরের কালামিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা রিনা আক্তার ৮ মাসের শিশু মিফতাকে ভর্তি করেছেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে। দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পরও তেমন উন্নতি নেই।

এরপরও চিকিৎসকের পরামর্শে চলছে চিকিৎসা।
একই অবস্থা দুই বছরের শিশু জিহানের।
দুইদিন ধরে ডায়রিয়াজনিত রোগ নিয়ে চিকিৎসাধীন এই হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ইউনিট-২ এ। শুধু মিফতা বা জিহান নয়, প্রায় প্রতিদিনই চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগ নিয়ে ভর্তি হচ্ছে শিশুরা।
চমেক হাসপাতাল শিশু ওয়ার্ড এর তথ্যানুযায়ী, গত ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৪১৪ জন শিশু ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে। এদের মধ্যে ১ ডিসেম্বর ১১১ জন, ২ ডিসেম্বর ৯০ জন, ৩ ডিসেম্বর ৪৭ জন, ৪ ডিসেম্বর ১১৬ জন, ৫ ডিসেম্বর ১১০ জন, ৬ ডিসেম্বর ৮২ জন, ৭ ডিসেম্বর ৪৫ জন, ৮ ডিসেম্বর ১৩৫ জন, ৯ ডিসেম্বর ৮২ জন, ১০ ডিসেম্বর ৩৬ জন, ১১ ডিসেম্বর ১১২ জন, ১২ ডিসেম্বর ৮৯ জন, ১৩ ডিসেম্বর ৮৬ জন, ১৪ ডিসেম্বর ৪৭ জন, ১৫ ডিসেম্বর ১৩৬ জন, ১৬ ডিসেম্বর ৯০ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।
ভর্তি হওয়া বেশিরভাগই আক্রান্ত ঠান্ডাজনিত রোগে।
শুধু চমেক হাসপাতাল নয়, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, মা ও শিশু হাসপাতালসহ সব বেসরকারি হাসপাতালেও বেড়েছে শিশু রোগীর সংখ্যা।
চমেক হাসপাতাল শিশু ওয়ার্ডে দায়িত্বরত এক নার্স  বলেন, ঠান্ডা মৌসুম আসার আগে রোগীর এমন ভিড় ছিল না। বর্তমানে রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। প্রতিটি বেডে তিনজন করে রোগী রাখা হয়েছে। তাছাড়া জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেক রোগীকে মেঝেতেও রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্বাভাবিক সময়ে হাসপাতালে গড়ে ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী ভর্তি হলেও এখন বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুদের ঠান্ডাজনিত সমস্যা এড়াতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া উচিৎ। বিশেষ করে এই সময় বাচ্চাদের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল শিশু ওয়ার্ডের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নাছির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, এই সময়টায় শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগ হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরী। শিশুদের ঠিকমতো যত্ন নিলে এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়ালে সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সেরে যায়। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে এটি জটিলও হয়ে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যদি কোনো শিশু খেতে না পারে, বুকের ভেতর শব্দ হলে কিংবা শিশু নিস্তেজ হয়ে যায় এবং খিঁচুনি হয় তাহলে বুঝতে হবে শিশুটি মারাত্মক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। এ ক্ষেত্রে শিশুকে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। কাশির মাত্রা বেশি হলেও চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। তবে সব সর্দি-কাশি নিউমোনিয়ার লক্ষণ নয়।