সোমবার, ৫ এপ্রিল ২০২১, ২২শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, সময় : রাত ৯:৪০

সমাজকর্মী আরমান বাবু`র বদান্যতায় হুইল চেয়ার পেলো অসহায় প্রতিবন্ধী তৌহিদ


প্রকাশের সময় :৩ জানুয়ারি, ২০২১ ২:৪০ : অপরাহ্ণ

 

রায়হান সিকদার,লোহাগাড়া প্রতিনিধিঃ

প্রতিবন্ধী দেশের বোঝা নয়,প্রতিবন্ধীরা দেশের সম্পদ। মোঃ তৌহিদুল ইসলাম।একজন শারিরীক প্রতিবন্ধী। হাটা চলাফেরা করতে একদম অক্ষম বললেই চলে। তার পিতার নাম ফজল করিম।তার বাড়ী লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ সাতগড় এলাকায়। তার পিতা কৃষক কাজ করলেও এখন অসুস্হতার কারলে কিছুই করতে পারেনা। তারা ৪ বোন এক ভাই।

জানা যায়, প্রতিবন্ধী তৌহিদ উপজেলার সদরের চট্টগ্রাম- কক্সবাজার মহাসড়কের পার্শ্বে হামাগুড়ি খাচ্ছিল। মুখ দিয়ে লালশা পড়ছিল । প্রতিবন্ধীর অসহায়ত্ব বিষয়টি সমাজকর্মী মোঃ আরমান বাবু রোমেলের দৃষ্টিগোচর হয়। প্রতিবন্ধী তৌহিদ মাটিতে পড়ে আছে। সিএনজি যোগে আরমান বাবু রোমেল যাওয়ার পথে প্রতিবন্ধীর পড়ে থাকার দৃশ্য চুখে পড়ে। জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সদস্য,করোনাকালীন সময়ে যিনি মানবতার কাজ করে প্রশংসীত হয়েছেন, বিশেষ করে করোনাকালীন সময়ে করোনায় ঝুঁকি নিয়ে উপজেলার ৯ইউনিয়নকে ভাগ করে নিজের অর্থায়নে এ্যাম্বুলেন্স যোগে চিকিৎসক নিয়ে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিয়ে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্হাপন করেছেন, উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান, সমাজকর্মী ও মানবতার ফেরিওয়ালা মোঃ আরমান বাবু রোমেল প্রতিবন্ধীর মায়ের সাথে কথা বলেন তিনি। জানতে পারেন তাদের অসহায়ত্বের কথা, দারিদ্র্যতার কথা। তার মায়ের কষ্টের সংসারের কথা শুনে আবেগ আপ্লুত হন আরমান বাবু। তাকে নগদ টাকা প্রদান করেন এবং তাৎক্ষণিক উপজেলা সমাজসেবা অফিসের সাথে কথা বলে একটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্হা করে দেন। তিনি হুইল চেয়ারটি উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের সাথে যোগাযোগ করে তাৎক্ষণিক তিনি নিজের হাতে টেনে নিয়ে প্রতিবন্ধীর কাছে ছুটে আসেন। প্রতিবন্ধী তৌহিদকে হুইল চেয়ারে তিনি কোলে করে ধরে বসিয়ে দেন। এমন এক মানবতার আত্ননাৎ দেখে তার জন্য হুইল চেয়ার ব্যবস্হা করে দেয়ার আরমান বাবুকে তার মা জাহানারা বেগম ধন্যবাদ জানান।

এ ব্যাপারে জাহানারা বেগম জানান, আমার ছেলে তৌহিদ একজন শারিরীক প্রতিবন্ধী। আমার ১ ছেলে এবং ৪ সন্তান। ভিক্ষা করে মেয়েদেরকে বিয়ে দিয়েছি। ছেলেটির ১০ বছরের পর থেকে প্রতিবন্ধী। ছেলেটির বয়স এখন ২৫ বছর। আমার স্বামী অসুস্হতার কারণে প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে অতি কষ্টে দিনযাপন করে যাচ্ছি। একটি হুইল চেয়ার না থাকার কারণে আমার ছেলেকে কোন জায়গায় নিতে কষ্ট হয়,ঘর থেকে বের করে উঠানে নিয়ে নেতে চরম মসকিল হতো, রৌদ্র যেতো পারিনা। ছেলেকে নিয়ে আমিরাবাদ থেকে বাড়ী ফেরার পথে রিক্সার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এমন অবস্হায় মোঃ আরমান বাবু নামের মানবতাবাদী মানুষ আমার ছেলের অবস্হা দেখে যেভাবে বুকে টেনে নিয়েছেন সত্যিই আমি অবাক হয়ে গেছি। সাথে সাথে একটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্হা করে দেন। সত্যিই আরমান বাবুর এমন মহানুভবতা দেখে আমি অনেক বেশী আনন্দিত। হুইল চেয়ার না থাকায় কত কষ্ট হত আমার ছেলে চলাফেরার সময়। আল্লাহ আরমান বাবুকে আরও উচ্চ মর্যাদা দান করুন।

সমাজকর্মী মোঃ আরমান বাবু রোমেল জানান, আসলে দুঃখ জনক তৌহিদ নামের এই প্রতিবন্ধী এতদিন যে হুইল চেয়ারের কারণে চলাফেরা করতে পারেনা সেটা আমাকে অনেক বেশী ব্যতিত করেছে। এরকম কোন পরিবারে হুইল চেয়ার না থাকলে আমার কাছে খবর আসলে সাথে সাথে আমি চেষ্ঠা করি হুইল চেয়ারের ব্যবস্হা করে দেয়ার জন্য। তিনি আরও জানান,প্রতিবন্ধীরা দেশের সম্পদ। তারা এখন অবহেলার পাত্র নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। এ সরকার প্রতিবন্ধী বান্ধব সরকার। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতিবন্ধীরা সকল ধরণের সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। পাশাপাশি মাননীয় এমপি মহোদয় ব্যক্তিগত ভাবে এবং সরকারী ভাবে প্রতিবন্ধিদের সকল ধরণের সহযোগীতা করে যাচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য কন্যা সায়মা ওয়ায়েজ পুতুল অটিজম নিয়ে সারা বিশ্বে কাজ করার জন্য প্রশংসনীত হয়েছেন। প্রত্যেক জায়গা থেকে প্রতিবন্ধীদেরকে প্রতিবন্ধি না ভেবে একজন মানুষ হিসেবে তাদের কে নিয়ে চিন্তা করি( আল্লাহর সন্তুষ্ঠি অর্জনের জন্য) একটু সহযোগীতার বাড়িয়ে দিই, ইহকাল ও পরকাল আমাদের জন্য অনেক বেশী মঙ্গল হবে।

ট্যাগ :