শনিবার, ১০ এপ্রিল ২০২১, ২৭শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, সময় : দুপুর ২:৫৭

সরকার বিরোধী প্রচারণা ও গুজব ছড়াচ্ছে কতিপয় ইউটিউব চ্যানেল!


প্রকাশের সময় :৭ এপ্রিল, ২০২১ ৭:৪০ : অপরাহ্ণ

কমল চক্রবর্তীঃ

বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয় মাধ্যম হল ইউটিউব। মানুষের কোন তথ্য জানার, শুনার বা কিছু শিখার থাকলে ইউটিউবে সার্চ দিয়ে তথ্যগুলো জেনে নেয়।এটা অবশ্যই ভালো দিক। এটা বিনোদনের যেমন খোরাক যোগায় তেমনি অনেক কিছু জানার ও শেখার কাজে এর রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। সেইসাথে আছে আয়ের একটা সুযোগ, যেসকল ইউটিউব চ্যানেল বেশী জনপ্রিয় ও বেশি লাইক, কমেন্টস ও ভিউয়ার আছে তারা গুগল থেকে অর্থ পায়। কিছু ইদানীং দেখা যাচ্ছে বিনোদনের নামে নোংরামি ছড়াচ্ছে বেশ কিছু ইউটিউব চ্যানেল।

আর সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনে ও অতিরিক্ত ভিউয়ার টানার জন্য নানা রকম মিথ্যা তথ্য দিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে। আবার কেউ সরকার বিরোধী অপপ্রচারেও ব্যবহার করছে ইউটিউব। সরকারের সব অর্জনকে ধুলোই মিশিয়ে চালাচ্ছে সরকার বিরোধী নানা অপপ্রচার। হেয় প্রতিপন্ন করছে সরকারকে ও বিশিষ্টজনকে। যা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই এটিকে বিশ্বাস করে লুফে নিচ্ছে। আর ক্ষোভে ফুঁসছে। গুষ্টি উদ্ধার করছে সরকারের। যে বাঙালী চিলে কান নিয়েছে শুনে কান না দেখে চিলের পিছনে দৌড়াতে অভ্যস্থ। সেই বাঙালীর পক্ষে এইসব ডাহা মিথ্যা ,উদ্ভট ও  অসুস্থ চিন্তা চেতনার ফসল এইসবকে সত্য বলে মেনে নেয়া দোষের কিছু নয়!

বেশ কিছু ইউটিউব চ্যানেল নানা রকম গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে জনগনের মনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অনুসন্ধান চালিয়ে পাওয়া চ্যানেল গুলোর মধ্য উল্লেখযোগ্য হল “FDB Point, smart bangle ctc, AUTV News24,All Bd News,Made in shylet, Top Bangla News, News Bazar info,BD viral News”Bangladeshi viral news”। এছাড়াও বেশ কিছু চ্যানেল সরকার বিরোধী তথা নানা অপপ্রচারে জড়িত। যে কোন একটি ইস্যুকে পুঁজি করে ছড়াচ্ছে গুজব ও বিভ্রান্তি। ভিউয়ার বাড়ানোর অপকৌশল হিসাবে মন গড়া ও ডাহা মিথ্যা তথ্যকে রম্যরসে সাজিয়ে গুছিয়ে উপস্থাপন করে বেড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষ এই তথ্যগুলোকে সঠিক ও বাস্তব বলে মেনে নিচ্ছে। আলোচনার ঝড় তুলছে পাড়া, মহল্লায় ও অলিতে গলিতে।

সম্প্রতি ইউটিউব খুললেই দেখা মিলে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ঘুড়ে বেড়াচ্ছে ইউটিউব জুড়ে। এতে করে একদিকে বাড়ছে ভিউয়ার অন্যদিকে জনমনে বাড়ছে ভীতি ও নানা শংখা।ওদের নিউজের শিরোনাম গুলো দেখেই বুঝা যায় বেশীরভাগ ক্ষেত্রে এরা ভিউয়ার টানার জন্য এসব করে বেড়ায়। কিন্তু এরা নিজের অজান্তেই দেশ ও জনগনের সর্বনাশ করে বেড়াচ্ছে। আমাদের দেশে কয়জন লোকই রাজনৈতিক সচেতন? কতজনই বা খোঁজ খবর রাখেন রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন বিষয়ে? তাই বেশীর ভাগ মানুষের মনে এইসকল অপ্প্রচারে বিভ্রান্তি ও সন্দেহ তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক।

এরা কখনো ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগাচ্ছে, কখনো রাজনৈতিক ইস্যুকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে। ওদের অনেকেই যখন ওদের চ্যানেলে লাইক ভিউয়ার দেখে আনন্দে আন্দোলিত, তখন কিন্তু তাদের দেয়া মিথ্যা তথ্যে দেশে ছড়িয়ে পড়ে অশান্তি, জালাও পোড়াও। রাষ্ট্র বা সরকারের উপর ঝাল ঝাড়তে গিয়ে সর্বনাশ করে জনগনের ঘামে শ্রমে গরে উঠা রাষ্ট্রীয় সম্পদ। আর যখন গায়ে জ্বালা ধরে তখন বিবেক বুদ্ধি লোপ পায়। ভুলে উপরে থুতু ছিটালে নিজের গায়েই পড়ে। পাড়ায় আগুন দিলে কিন্তু নিজেকেও দৌড়াতে হয়।

এরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বিভিন্ন ধরনের ছবি সংগ্রহপূর্বক এডিট করে রাষ্ট্রবিরোধী মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে দেশের ভেতর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে আপলোড করে। বিভ্রান্তিমূলক গুজব বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য দেশের বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের অংশ বিশেষভাবে ব্যবহার করে থাকে। রাষ্ট্রবিরোধী বিরুপ সমালোচনা, গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানহানিকর, কুরুচিকর ও বিভ্রান্তিমূলক গুজব প্রচার করাই এদের কাজ। এদের অনেকেই দেশের বাইরে থেকেও এসব কাজ করে বেড়াচ্ছে। এরা মানুষের সংবেদনশীল চিন্তাচেতনায় সন্দেহ ও অবিশ্বাসের বীজ পুঁতে দিচ্ছে অনায়াসেই।

কিছু কিছু চ্যানেলের নিউজের শিরোনাম হল,যেমন সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে নিচ্ছে, শেখ হাসিনার ফাঁসি সময়ের ব্যাপার মাত্র, গুম করা হয়েছে শিশু বক্তা মাদানীকে, ফেঁসে গেলেন হাসিনা, সেনাবাহিনীকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবার হুমকি মেজর দেলোয়ার, আর বেশী দিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না হাসিনা, ৬০ কোটি টাকায় ২৪ জন কিলার ভাড়া করেছিল হাসিনা, মেজর দেলোয়ার, পিলখানা হত্যাকান্ডের আসল ঘটনা ফাঁস ,শেখ হাসিনাকে ফাঁসি দিয়ে সেনাবাহিনী প্রতিশোধ নিবে, ভয়ঙ্কর বিপদে প্রধানমন্ত্রী ;৫০ বছর আগের তথ্য ফাঁস করে দিলেন মামুনুল হক, শিগ্রই শেখ হাসিনা থেকে ক্ষমতা নিয়ে নিবে সেনাবাহিনী, সেনাবাহিনী সরকার মুখোমুখি” ইত্যাদি

এই রকম অসংখ্য মিথ্যাচার ও কল্পনা প্রসূত, মনগড়া বক্তব্য নিয়ে চালাচ্ছে প্রচারণা। এর মধ্যে বেশ কিছু চ্যানেল বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচারণা চালাচ্ছে। যা অনেকটা রাষ্ট্রদ্রোহের সামিল। সরল প্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকেও ওরা কাজে লাগাচ্ছে। এটা কি নিছক চ্যানেলে ভিউয়ার বাড়ানোর জন্য? না সত্যিকার অর্থে তাই নয়, এর পিছনে থাকতে পারে সরকার বিরোধী মদদদাতাদের ইশারা। তা কোন ভাবেই উড়িয়ে দেয়া যায় না। তাই সংশ্লিষ্ট সরকারী প্রশাসনকে এইসকল অপকর্ম বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করে সচেতন মহল। কথায় আছে একটা মিথ্যা হাজার বার বললে তাই সত্য হয়ে যায়। এদের নির্লজ্জ মিথ্যাচারের মাসুল হয়ত সরকারকে একদিন বহন করতে হবে।

বর্তমানে এমনিতেই সারাদেশের মানুষ করোনা আতঙ্কে দিশাহারা। এর মধ্যে ধরনের নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য সমাজে আরও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই সময়েও সক্রিয় হয়ে উঠেছে গুজব ছড়ানো চক্র। সরকারবিরোধী- দেশবিরোধী চক্রটি তাদের রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য এসব বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এতে কোন সন্দেহ নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষ করে ইউটিউবে গুজব ছড়াচ্ছে। তাই বিটিআরসি ও সাইবার ইউনিটকে আরো সজাগ ও সতর্কতা অবলম্বন করে এইসব চ্যানেল বন্ধ তথা এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

জানা গেছে, একটি মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারবিরোধী নানা গুজব ছড়িয়ে যাচ্ছে। পুলিশ গুজব ছড়ানোয় দায়ে এখন পর্যন্ত ৫০ এ্যাকাউন্ট বন্ধ করার জন্য বিটিআরসির কাছে চিঠি দিয়েছে। একইভাবে আরও ৮২টি এ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশ এগুলো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর ১৫০টি পেজ ও সাইটের সন্ধান করছে পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট। গুজব ছড়ানোর অপরাধে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পুলিশ গত দুই মাসে ২৪ জনকে আটক করেছে। অন্যদিকে বিটিআরসিকে দেয়া ৫০ এ্যাকাউন্টের মধ্যে অর্ধেকও বন্ধ হয়নি। এই এ্যাকাউন্টগুলো বিদেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছে বলে বিটিআরসি সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, এই রকম ৪০টি সাইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নজরদারিতে ১৫০টি আইডি আছে। গুজব ছড়াচ্ছে অযথা মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। সরকারকে বিপদে ফেলতে তথা বিশ্ব জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। তারা অনলাইনের বড় ভাইরাস। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

লেখকঃ কমল চক্রবর্তী- বার্তা সম্পাদক-চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন
বার্তা বিভাগীয় প্রধান- চট্টগ্রামের সময়
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার – দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার

সিএসপি/কেসিবি/৭ঃ৩১পিএম

ট্যাগ :