সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১০:১৭ অপরাহ্ন

সারাদেশে ১০টি অভিযোগের বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন

এনফোর্সমেন্ট ইউনিটে আসা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সারাদেশে মোট ১০টি অভিযোগের বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে দু’টি অভিযান ও ১৫টি দপ্তরে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুদক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

দুদক সূত্র জানায়, দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের চিফ ইন্সট্রাক্টরের বিরুদ্ধে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি কেনার অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করেছে দিনাজপুর দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম।

দুদক টিম সরজমিনে ওই অফিস পরিদর্শনপূর্বক অভিযোগ সংশ্লিষ্ট রেকর্ড ও তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি ক্রয় কমিটিতে ছিলেন।

টেন্ডারে উল্লেখিত ব্র্যান্ড ও মানের থেকে তিনি নিম্নমানের ব্র্যান্ডের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেন। বর্তমান অধ্যক্ষও এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগের সত্যতা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় প্রকৃত সত্যতা উদঘাটনের জন্য এ সংক্রান্ত আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে দুদক টিম।

এদিকে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলাধীন ২২ নম্বর টনকী ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসাইন সরকারসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের প্রাপ্য ভাতা আত্মসাৎ, ন্যায্য মূল্যের চাল বিতরণে অনিয়ম, দুস্থদের বিভিন্ন প্রকার ভাতা আত্মসাৎ, নাগরিক সুবিধা প্রত্যাশী ব্যক্তিদের থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং হয়রানির অভিযোগের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক রাফী মো. নাজমুস্ সা’দাৎ এর নেতৃত্বে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে ইউনিয়ন পরিষদের বার্ষিক আয়-ব্যয়, বিভিন্ন প্রকার ভাতা বিতরণ ও অন্যান্য রেজিস্ট্রার পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের ফান্ড অপ্রতুলতার কারণে সদস্যদের প্রাপ্য ভাতার ইউপি অংশ নির্ধারিত হারের কম প্রদান করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রকার ভাতা বিতরণে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগের প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া গেছে। দুদক টিম ভাতাভোগীদের তালিকা ও নথিপত্র সংগ্রহ করেছে। টিম এই বিষয়ে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই শেষে কমিশনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে।

এছাড়া, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাছুলিয়া থেকে মাশাজান পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযাগে প্রধান প্রকৌশলী ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ই-জিপি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে প্রধান প্রকৌশলী ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, এলজিইডি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে পিইডিপি-৪ এর আওতায় স্কুল ভবন-বাউন্ডারিসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ টেন্ডার অনুযায়ী কাজ করে বিল উত্তোলনপূর্বক আত্মসাতের অভিযোগে প্রধান প্রকৌশলী ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, সওজের প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম কেনাকাটায় বাজার মূল্যের চেয়ে অধিকহারে মূল্য দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রধান প্রকৌশলী এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক কমিশনকে জানানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছে দুদক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুক পেইজ