শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সময় : রাত ৮:৪৭

সোনার বাংলা কারো দানে পাওয়া নয়


প্রকাশের সময় :১৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ১২:৫৪ : অপরাহ্ণ

 সিএসপি নিউজ: একটি তর্জনীর নির্দেশে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সাত কোটি মানুষ একত্রিত হয়ে একটি দেশের দাবি তোলে। এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানি সরকার বাংলার নিরস্ত্র মানুষের উপর হামলা চালায় ২৫ মার্চের কালো রাতে। এর পরপরই স্বাধীনতার ডাক আসে জেলবন্দী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের পরিকল্পনা মতো। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। প্রাণ বিলিয়ে দেন লাখো বীর। প্রাণ দিয়েছেন নিরস্ত্র লাখো পিতা-পুত্র-ভাই, সম্ভ্রম হারিয়েছে লাখো মা-বোন; যারা এদেশের মাটিকে আঁকড়ে ধরেছিলেন বিজয়ের পতাকা দেখবেন বলে। এভাবে নয় মাসের যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি দেশ, একটি পতাকা, বেঁচে থাকার অনিন্দ্য স্বাধীনতা। আজ সেই বিজয়ের ৪৯ বছর, ৫০তম বিজয় দিবস।

বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরব ও অহংকারের দিন আজ। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে তোপধ্বনিতে শুরু হবে বিজয়ের উৎসব। সেই সঙ্গে গর্বময় এক বিষাদের সঙ্গে জাতি স্মরণ করবে লাল-সবুজের পতাকার জন্য প্রাণ দেওয়া লাখো শহীদকে।

বুকে বেদনার মহাসাগর পুষে রেখে বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে। নির্মাণের এই পথচলায় রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজের বিবর্তনের ধাপে ধাপে এগুচ্ছে। এ নবনির্মাণের বহু চিহ্ন এখন অনায়াসে শনাক্ত করা যায়। একবিংশ শতকের দ্বিতীয় দশকে এদেশের প্রথম সাফল্যের দৃশ্যপটটি নিঃসন্দেহে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া। বিতর্কের ডালপালা ছেঁটে জটপাকানো অন্ধকারে নাগ-নাগিনীর ফোঁসফাঁস তোয়াক্কা না দিয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া আজ সফল।

এছাড়াও এগিয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্রের অবকাঠামোগত উন্নয়ন। এ সার্বিক বিজয় আজ রাষ্ট্রের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থে কোলাহলহীন। বিশ্ব মহামারি নভেল করোনা ভাইরাসের ছোবলে সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশও আজ উৎসবকে সাজিয়েছে নিজগৃহে। তাই এবারের সব আয়োজন অনেকটা নিয়ন্ত্রিত। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে বলে জানা গেছে। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ ফুল দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এ বিজয়ের উৎসবে তাদের আয়োজন সাজিয়েছে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে। কোর্ট হিলে ৩১ বার তোপধ্বনিতে শুরু হয় তাদের এ আয়োজন। এতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহম্মদ তানভীরও। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় চট্টগ্রামের সকল সরকারি, আধা সরকারি ও বেসরকারি প্রাতিষ্ঠানিক ভবনে। তবে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় আনুষ্ঠানিকভাবে সকাল ৯টায়। এরপর দুপুর দেড়টায় হাসপাতাল, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খাবার বিতরণ করবে।