সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, সময় : সকাল ৬:৪৮

স্বর্ণচোরাচালান চক্রের মূল হোতারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে; কর্মচারীরা গ্রেফতার হলেও মালিক অধরা


প্রকাশের সময় :১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ৩:০৪ : অপরাহ্ণ

সিএসপি নিউজ: চট্টগ্রামের স্বর্ণের পাইকারি মার্কেট হিসেবে খ্যাত হাজারীর গলির শীর্ষ স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুধীর রঞ্জন বণিকের কর্মচারী সাগর মাহাজন অবৈধ লেনদেনের অপরাধে সিআইডির ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াড অর্গানাইজড ক্রাইমের হাতে গ্রেফতার হলেও মূল হোতারা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সম্প্রতি ঢাকা সিআইডির ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াড অর্গানাইজড ক্রাইম এর উপ-পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ হারুণ উর রশীদ কোতোয়ালী থানায় ২০ জনকে আসামি করে গত ১৮ মার্চ কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, উক্ত মামলায় গ্রেফতার হওয়া ১২জনের মধ্যে সাগর মহাজন সুধীর রঞ্জন বণিকের কর্মচারী বলে জানা যায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের একাধিক কর্মচারীর নামে ব্যাংক একাউন্ট করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন করলেও সম্প্রতি ২১ একাউন্ট ২৪০ কোটি টাকা লেনদেনের অপরাধে সিআইডি ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াড অর্গানাইজড ক্রাইম কর্তৃক ২০ জন আসামীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালী থানার মামলা নং ৬৭ তারিখ ১৮-০৩-২০০২ দায়ের করার পরের দিন গ্রেফতার হওয়া ১২ জন আসামী চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন আদালতে স্বীকারউক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করার পর আত্মগোপনে রয়েছেন মূল হোতারা।

জানা যায় দীর্ঘ তিন দশক যাবত চট্টগ্রামের হাজারীগলি ও রিয়াজউদ্দিন বাজারের স্বর্ণ চোরাচালানের মুল হোতা আন্ডার ওয়ার্ল্ডের স্বর্ণ চোরাচালান ও হুন্ডি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করলেও প্রশাসন রয়েছে নীরব।

স্বর্ণ চোরাচালান ও হুন্ডি ব্যবসার কারণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে প্রতিদিন চালিয়ে যাচ্ছেন কোটি কোটি টাকার স্বর্ণ চোরাচালান ও হুন্ডির ব্যবসা।

চট্টগ্রাম জুয়েলারি মালিক সমিতির এক নেতা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে প্রতিবেদককে জানান হাজারী গলি ও রিয়াজউদ্দিন বাজারের একাধিক স্বর্ণ চোরাচালান-হুন্ডি ব্যবসায়ী রয়েছেন যাদের কারণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে, তাদের অঢেল সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে, চোরাকারবারীদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সকল সম্পত্তি আইনের আওতায় এনে বাজেয়াপ্ত করা গেলে বাংলাদেশ সমৃদ্শালি রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে জানান স্বর্ণ চোরাচালানকারীদের হাত অনেক লম্বা, তারা প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন যাবৎ চোরাচালান ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাদের রয়েছে দেশে-বিদেশে নামে-বেনামে হাজার কোটি টাকার সম্পদ । স্বর্ণ চোরাচালান ও হুন্ডি ব্যবসায়ীদের বর্তমানে হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের সিআইডির ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াড অর্গানাইজড ক্রাইম, দুর্নীতি দমন কমিশন, আয়কর বিভাগ, এনএসআই, ডিজিএফআইসহ সকল গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করলে সকল তথ্য উদঘাটন হবে।

সুধীর রঞ্জন বণিকের মালিকানাধীন শিবাজী গোল্ড নামক দোকানের কর্মচারী সাগর মহাজন চাকুরীর আড়ালে প্রতিনিয়ত স্বর্ণ চোরাচালান করে আসছে।

স্বর্ণ চোরাচালানের বিষয়ে জানতে চাইলে শিবাজী গোল্ড এর স্বত্বাধিকারী সুধীর রঞ্জন বণিক প্রতিবেদককে জানান সাগর মাহাজন আমার কর্মচারী হলেও তিনি সাত-আট বছর পূর্বে নিজস্ব ব্যবসা করার কারণে গ্রেফতার হয়েছে।

বাণিজ্য নিকেতনের সুগন্ধা জুয়েলার্স এর মালিক পিকলু বনিক প্রতিবেদককে জানান গ্রেফতার হওয়া সাগর মহাজন সাত-আট বছর পূর্বের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে, সে আমার পরিচিত হওয়ার সুবাদে আমি আইনী সহায়তা ও তার পরিবারকে সমবেদনা জানাতে তাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। বর্তমানে আমার জানামতে সাগর মহাজন কোন রকমের অবৈধ ব্যবসার সাথে যুক্ত নয়।

হাজারীগলির একাধিক স্বর্ণব্যবসায়ি নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে জানান সুধির রঞ্জন বনিকের কর্মচারীর সাগর মহাজনের সাথে ফটিকছড়ির আবু আহাম্মদ প্রকাশ আবু এবং ইকবাল মোহাম্মদ প্রকাশ নেজাম ওরফে নিজামসহ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দুবাই-বাংলাদেশ-ভারত টানজিড স্বর্ণচোরাচালান ও হুন্ডি ব্যবসার সাথে যুক্ত রয়েছে।

সিআইডির ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াড অর্গানাইজড ক্রাইম  তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর সাদেক আলী প্রতিবেদককে জানান আমরা ১২জন আসামীর স্বীকারোক্তি মূলক জবানবব্দি ভিত্তিতে মূলহোতাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য নিয়মিত লগইন করুন, নিউজটি শেয়ার করুন।