সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সময় : রাত ১:১১

হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা


প্রকাশের সময় :৩০ এপ্রিল, ২০২১ ২:০৬ : অপরাহ্ণ

সিএসপি নিউজ: বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ এনে হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আর সেই মামলাটি করেছেন তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা।

শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় ঝর্ণা বাদী হয়ে এ মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলা নম্বর ৩০।

মামলার এজাহারে ঝর্ণা দাবি করেন, ‘অসহায়ত্ব ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মামুনুল হক আমার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছেন। কিন্তু বিয়ের কথা বললে করছি, করব বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন তিনি। ২০১৮ সাল থেকেই ঘোরাঘুরির কথা বলে মামুনুল বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্টে আমাকে নিয়ে যান।’

এজাহারে বাদী এও বলেন, ‘আমার স্বামী মাওলানা শহীদুল ইসলামের মাধ্যমে ২০০৫ সালে মামুনুল হকের সঙ্গে পরিচয় হয়। স্বামীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকায় আমাদের বাড়িতে মামুনুলের অবাধ যাতায়াত ছিল। আমার স্বামীর সঙ্গে আমার মতানৈক্য ছিল। সেসবের মধ্যে মামুনুল হক প্রবেশ করে শহীদুল ও আমার মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে থাকেন। পরে তার পরামর্শেই আমাদের বিচ্ছেদ হয়।’

ঝর্ণা আরও বলেন, ‘সংসার ভাঙার পর আমি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিকভাবে অসহায় হয়ে পড়ি। এ সময় মামুনুল আমাকে খুলনা থেকে ঢাকায় আসার জন্য বলেন। আমি ঢাকায় চলে আসি। মামুনুল আমাকে তার অনুসারীদের বাসায় নিয়ে রাখেন। সেখানে নানাভাবে আমাকে প্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে তার প্রলোভনে পা দিই। এরপর তিনি উত্তর ধানমন্ডির নর্থ সার্কুলার রোডের একটি বাসায় আমাকে সাবলেট রাখেন। একটি বিউটি পার্লারে কাজের ব্যবস্থা করে দেন। ঢাকায় থাকার খরচ মামুনুলই দিচ্ছিলেন।’

মামলা বলা হয়, রিসোর্টকাণ্ডের পর পরিচিতদের বাসায় জোরপূর্বক আটকে রাখা হয় ঝর্ণাকে। এ সময় তাকে তার বাবা-মার সঙ্গেও যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি।

হেফাজত নেতা মামুনুল হক ১৩ এপ্রিল ঝর্ণাসহ নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টে ধরা পড়েন। তখন তিনি ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। পরে প্রথম স্ত্রী আমেনা তৈয়বার সঙ্গে একটি ফোনালাপ ফাঁস হয় তার, যেখানে মামুনুল বলেন, জনরোষ থেকে বাঁচতেই জান্নাত আরা ঝর্ণাকে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। আসলে ওই ঝর্ণা হাফেজ শহীদুলের স্ত্রী।

১৮ এপ্রিল মামুনুল হক গ্রেপ্তার হলে জিজ্ঞাসাবাদে রিসোর্টকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। আরও দুই নারীর সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক করেন মামুনুল। এরপর জান্নাত আরা ঝর্ণাকে মামুনুলের বোনের মোহাম্মাদপুরের বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। দেওয়া হয় বাবার জিম্মায়।

হেফাজত নেতা মামুনুল হক বর্তমানে দ্বিতীয় দফায় পুলিশের রিমান্ডে রয়েছেন। পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তার ব্যাংক হিসাবে ৬ কোটি টাকার অর্থের সন্ধান পাওয়ার দাবি গোয়েন্দা পুলিশের।