সোমবার, ৫ এপ্রিল ২০২১, ২২শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, সময় : রাত ৯:২৭

২০-এর ‘বিষ’মুক্তির প্রার্থনায় ২১-কে স্বাগত


প্রকাশের সময় :১ জানুয়ারি, ২০২১ ১২:৪০ : পূর্বাহ্ণ

সিএসপি ডেস্ক: শেষ পর্যন্ত শেষ হলো ২০২০ সাল। বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর রাতে ঘড়ির কাঁটা ১১টার ঘর পেরিয়ে ১২টা স্পর্শ করল। শুরু হলো নতুন বছর ২০২১। গোটা বিশ্বের জন্য মহামারিময় একটি বছর পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সেই মহামারি থেকে মুক্তির ব্যাকুল প্রত্যাশা নিয়ে হাজির হলো নতুন বছরটি। করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারি থেকে মুক্তির নিশ্চয়তা নেই, তবু মানুষ তো আশায় বাঁচে। সেই আশা নিয়েই বিশ্ববাসীকে বলতে হচ্ছে— স্বাগত ২০২১।

আর দশটি বছরের মতোই অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে হাজির হয়েছিল ২০২০ সাল। কিন্তু শুরু থেকেই বছরটি বিশ্ববাসীর কাছে বলতে গেলে একরকম বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। করোনাভাইরাস নামের এক মহামারির কবলে পড়ে বছরটি রীতিমতো দুর্বিষহ হয়ে দাঁড়ায়। খালি চোখে অদৃশ্য এক ভাইরাস কণা গোটা মানবজাতির সামনেই যেন হাজির হয় ‘বিষ’ হিসেবে। সেই বিষে নীল হয়ে যাওয়া বিশ্ব যেন কেবলই প্রার্থনা করেছে, কবে শেষ হবে ‘১৮ মাসের বছরে’ পরিণত হওয়া এই বছরটি। এমন নয় যে এই বছরটি শেষ হলেই করোনাভাইরাস নাম ‘বিষ’ থেকে মুক্তি মিলবে, তবে নতুন বছরের প্রত্যাশার সঙ্গেই বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ, তথা বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষেরই ভাবনায় জড়িয়ে রয়েছে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ‘ভ্যাকসিন’ নামের মারণাস্ত্রটি।

হ্যাঁ, শেষ পর্যন্ত ‘বিষ’ হয়ে ওঠা বিশ সালের আবর্তন শেষ হয়েছে। আর ‘বিষ’মুক্তির প্রত্যাশা নিয়েই শুরু হলো একুশের যাত্রা। ওই যে ভ্যাকসিন নামের মারণাস্ত্রটির কথা বলা হলো, এরই মধ্যে সেটির প্রয়োগ শুরু হয়েছে বেশকিছু দেশেই। নতুন বছরে সেই ভ্যাকসিন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে, করোনাকে পরাজিত করার যুদ্ধে মানুষকে দেবে বাড়তি শক্তি— বিশের ‘বিষ’ ভুলে একুশের কাছে সেই প্রত্যাশা তাই একদম বাস্তবসম্মতই।

বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১০টা তথা বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় ২০২০ সালকে বিদায় জানিয়ে বিশ্বের প্রথম অঞ্চল হিসেবে ২০২১ সালকে বরণ করে দ্বীপরাষ্ট্র সামওয়া ও টোঙ্গা। এরপর বরাবরের মতোই প্রথম দেশ হিসেবে বর্ষবরণের বড় উদযাপনটি করে নিউজিল্যান্ড। করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি প্রায় শতভাগ নিয়ন্ত্রণে থাকায় গণজমায়েতে নিষেধাজ্ঞা ছিল না দেশটিতে। ফলে অকল্যান্ডের সুপরিচিত আতশবাজি দেখা বড় আয়োজনেই। এরপর একে একে আরও অনেক দেশই বরণ করে নিয়েছে নতুন বছরকে। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে অবশ্য বেশিরভাগ দেশেই এই আয়োজন ছিল সীমিত পরিসরে।

সামওয়া ও টোঙ্গায় বর্ষবরণের আট ঘণ্টা পর বাংলাদেশও বরণ করে নিল নতুন বছরকে। করোনার ছোবলে এই বছরটিতে নীল হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশও। ৫ লাখেরও বেশি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি করোনাভাইরাস কেড়ে নিয়েছে সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ। এখনো প্রায় প্রতিদিনই হাজারের বেশি মানুষের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে, প্রতিদিনই মারা যাচ্ছেন প্রায় ২০-৩০ জন। ফলে করোনাভাইরাস সম্পর্কিত সব ধরনের সতর্কতা থেকে মুক্তি মিলছে না সহসাই। তারপরও এই সতর্কতার মধ্যেও স্বস্তি হলো— গত কিছুদিন থেকেই সংক্রমণের হার নিম্নমুখী। তারপরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসসহ সংশ্লিষ্ট সবাই-ই বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হবে, পরতে হবে মাস্ক।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এক বাণীতে ব্যবহারিক জীবনযাত্রায় অবিচ্ছেদ্যভাবে মিশে থাকা খ্রিষ্টীয় বছরটিকে স্বাগত জানিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নববর্ষ উদযাপনের আহ্বান জানান। নববর্ষ সবার মাঝে প্রাণের নতুন স্পন্দন, নতুন আশা ও নতুন সম্ভাবনা জাগায় উল্লেখ করে তিনি মহামারির ভয়াবহতাকে মোকাবিলা করে নতুন বছরে অমিত সম্ভাবনার পথে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ারি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২১ সাল হবে জাতীয় জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর একটা যুগসন্ধিক্ষণ হচ্ছে ২০২১ সাল। এই যুগসন্ধিক্ষণে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে নিরলস প্রয়াস চালাতে হবে।

গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী নতুন এই বছরকে স্বাগত জানিয়ে দেশবাসী, প্রবাসী বাঙালিসহ বিশ্ববাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। আওয়ামী লীগ সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে ধর্মীয় উগ্রবাদসহ যেকোনো সন্ত্রাসবাদ দমনে প্রতিজ্ঞাবন্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করারও আহ্বান জানান সবার প্রতি।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, করোনা মহামারি বিশ্ববাসীকে এক কঠিন বার্তা দিয়েছে। যতই উন্নত হোক না কেন, একা কোনো দেশ শ্রেষ্ঠত্বের দাবি নিয়ে দাঁড়াতে পারবে না। পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই যেকোনো বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। আমাদের সবাইকে এ থেকে শিক্ষা নিতে হবে। পাশাপাশি তারুণ্যের শক্তি ও প্রযুক্তিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে নেতৃত্বে দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।