শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১, ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, সময় : সকাল ১০:৫৮

৫০ টাকা চাঁদার জন্য মাংস বিক্রেতার মাথা ফাটালেন কাউন্সিল বারেক!


প্রকাশের সময় :৩ এপ্রিল, ২০২১ ৬:০০ : অপরাহ্ণ

ঘটনার ছয়দিন পরেও মামলা নেয়নি পুলিশ

সিএসপি নিউজ: চট্টগ্রাম নগরীর ৪০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল বারেকসহ ৩০-৪০ বিরুদ্ধে স্থানীয় মাংস বিক্রেতার নিকট থেকে চাদাঁদাবী হামলার অভিযোগের ৬ দিন পার হলেও মামলা নেয় নি পুলিশ।

জানা যায় অটো-ভ্যানগাড়িতে মাংস নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ব্যবসা করেন নবী (১৮) নামে এক যুবক। প্রতিদিনের মতো গত রবিবার (২৮ মার্চ) ভ্যানগাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলেন ব্যবসার উদ্দেশে। এসময় ৫০ টাকা চাঁদা দাবি করে ৪০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল বারেকের লোকজন।

একপর্যায়ে চাঁদা দিতে বাধ্য হয় সে। মাংস বিক্রেতা নবী প্রতিবেদককে বলেন, চাওয়ার সাথে সাথেই চাঁদা কেন দিলো না- এই কারণে নবীসহ তাঁর দুই সহযোগীকে ঘটনাস্থল থেকে টেনে হিঁচড়ে বাড়িতে নিয়ে যায় স্বয়ং কাউন্সিলর। এরপর কাউন্সিলর নিজেই ইট নিয়ে আঘাত করে নবীর মাথায় এবং পিটিয়ে আহত করেন তাঁর বড়ভাইসহ এক বন্ধুকে।

এই ঘটনায় গত ২৯ মার্চ রাতে কাউন্সিলর আব্দুল বারেকসহ মোট দুইজনকে অভিযুক্ত অজ্ঞাতনামা ৩০-৪০ জনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী রনি বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়ের করার ছয়দিন পার হলেও এ ব্যপারে কোনপ্রকার আইনী ব্যবস্থা নয়নি পুলিশ।

ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পতেঙ্গা থানার অপারেশন অফিসার (এসআই) মো. মনিরুল ইসলাম। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টার দিকে ভ্যানগাড়ি করে মাংস বিক্রির জন্য খালপাড় এলাকার পকেট গেইটের সামনে যায় নবী, রুবেল মিয়া ও রনি। এসময় রাস্তার পাশে দাঁড়াতেই মহিউদ্দিন নামে এক যুবক এসে ৫০ টাকা চাঁদা দাবি করে তাঁদের কাছে। প্রথমে তাঁরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালেও পরবর্তীতে বাধ্য হয় দিতে। চাঁদা দেয়ার একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি হয় তাঁদের মধ্যে। এসময় মহিউদ্দিন ফোন করলে ঘটনাস্থলে হাজির হয় কাউন্সিলর বারেকসহ আরও ৩০-৪০ জন ক্যাডার। এরপর তাঁদের টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায় কাউন্সিলরের মাজার গলির বাড়ির সামনে। জানা যায়, বাড়িতে নেয়ার পর কাউন্সিলর ইট নিয়ে নবীর মাথায় আঘাত করে। ৯৯৯-এ কল দিয়ে সাহায্য চাইতেই আরও ক্ষেপে গিয়ে কাউন্সিলর বলেন- ‘কোন পুলিশ-সাংবাদিক ডাকবি ডাক। দেখি তোকে কে বাঁচায়।’ এরপর নবীর বড় ভাই রুবেল এবং বন্ধু রনিকেও কাঠের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন কাউন্সিলর।

একপর্যায়ে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাঁদের উদ্ধার করে। ভুক্তভোগী রুবেল মিয়া প্রতিবেদককে জানায়, ‘আমরা খেটে খাওয়া গরীব মানুষ। আমরা দিনে এনে দিনে খাই। আমরা গরীব বলেই কি এমন অত্যাচার ? ওনাকে আমরা মামা বলে ডাকি। উনিই আমাদের সাথে এমন করবে ভাবতেও পারিনি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চাঁদার ৫০টাকা দিয়েও মার খেলাম শুধুমাত্র আক্রোশের কারণে। আমরা গরীব মানুষ। আমরা শুধু এর সমাধান চাই। কিন্তু অভিযোগ করার পরেও দিনের পর দিন সমাধানের আশ্বাস দিয়ে আমাদের ঘোরানো হচ্ছে। এখন আমরা ভয়ে ওই জায়গায় গিয়ে ব্যবসাও করতে পারছিনা। ব্যবসা না করলে খাবো কি? আমরা চাই সুষ্ঠভাবে ব্যবসা করতে।’

এবিষয়ে অভিযুক্ত চসিক ৪০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল বারেকের নিকট জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে  প্রতিবেদককে সরাসরি দেখা করার প্রস্তাব দেন।

এ বিষয়ে পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ বলেন- বিষয়টি তদন্তাধিন রয়েছে।